বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে মিয়ানমারকে উৎসাহ দেবে রাশিয়া

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসতে মিয়ানমারকে উৎসাহ দেবে রাশিয়া। আর ২০২৪ সালের মধ্যে রূপপুরে দুই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও শেষ হবে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এমন আশ্বাস দিয়েছেন বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর নির্যাতনে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বাংলাদেশের সঙ্গে করা কোনো চুক্তিই মানছে না মিয়ানমার।

এর মধ্যে সম্প্রতি রাশিয়া সফর করেছেন মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল মাউং মাউং কাউ। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর রাশিয়ার কাছ থেকে সমরাস্ত্র প্রবাহ যাতে অব্যাহত থাকে তা নিশ্চিত করতেই সফর।

রাশিয়ার এ ধরনের আচরণে বাংলাদেশ হতাশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব জায়গায় রাশিয়া বাংলাদেশের বিরোধিতা করছে।

রোহিঙ্গাসহ অন্য সংখ্যালঘুরা দীর্ঘ দিন ধরেই মিয়ানমারে নির্যাতিত। আর গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোসহ বিশ্ব উদ্বিগ্ন।

এর মধ্যে মিয়ানমারকে সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে আরও দীর্ঘায়িত করবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ। আর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, উজবেকিস্তানে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ‘কানেকটিভিটি’ নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাইড লাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার এ বৈঠক করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ২০২৩–২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন দুই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প শেষ হবে বলে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রতিশ্রুতি দেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্তার জন্য বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান একে আবদুল মোমেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে কোভিড টিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবগত করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সক্রিয় এবং ফলপ্রসূ সহযোগিতার জন্য বৈঠকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে একত্রে কাজ করতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই ঐকমত্য হয়েছেন।

সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাশিয়া মিয়ানমারকে উৎসাহ দেবে বলেও জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

,