বাংলাদেশে বিদেশি ফ্লাইটের টিকেট নেই, প্রবাসীদের সাথে তামাশা

বাংলাদেশে লকডাউন তুলে দেয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে এয়ারলাইনসের টিকিটের মূল্য। এয়ারলাইনসগুলো সিন্ডিকেট করেছে।

ফলে আগামী এক সপ্তাহের কোনো দেশের টিকিট নেই বললেই চলে। এদিকে টিকিটের বাড়তি মূল্য গুনতে হচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসের ফ্লাইটেও।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর টিকিটের দাম সবচেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের।

তারা আক্ষেপ করে বলছেন, ‘আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। দফায় দফায় টিকিটের দাম বাড়লেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকার মনের ভুলেও প্রবাসীদের কষ্টের কথা বোঝে না। বড়লোক ও দুর্নীতিবাজদের জন্যই যত সুবিধা। না হলে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোর চেয়েও মধ্যপ্রাচ্যের টিকিটের দাম বেশি হতো না।’

এভাবেই গত বৃহস্পতিবার এয়ারপোর্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন সৌদিগামী প্রবাসী আকরামুল হাসান।

১২ বছরের বেশি সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করছেন আবু সাঈদ খান। তিনি জানান, ১২ বছরে এবারই প্রথম এত বেশি টাকা দিয়ে টিকিট করেছি। যে টাকায় টিকিট করেছি, এ টাকায় দু-তিনবার যাওয়া-আসা করা যায়।

ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আগামী ১০ দিনের মধ্যে কোনো এয়ারলাইনসের টিকিট নেই। বাধ্য হয়ে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের টিকিট করেছি।

আর ফেব্রুয়ারি মাসে টিকিটের মূল্যও অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। এদিকে ওমিক্রন প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কখন আবার লকডাউন দেয়, সে অনিশ্চয়তার কারণেই ছুটি থাকা সত্ত্বেও চলে যেতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন করে ওমিক্রন বাড়ায় দেশে কখনও আবার মানুষের মাঝে লকডাউন-আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। যারা মার্চ পর্যন্ত ছুটি কাটাতে চেয়েছিলেন, তাদেরও একটা বড় অংশ টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসেও টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালের চেয়ে প্রায় তিনগুণ ভাড়া বেশি নিচ্ছে ঢাকার যাত্রীদের কাছ থেকে।

কলকাতা থেকে দুবাই যেতে এক যাত্রীকে ওয়ানওয়ে বিমানভাড়া দিতে হয় ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা। সেখানে ঢাকা থেকে বিমান ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।

আবার নেপাল থেকে দুবাই যেতে লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। একই রুটে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে আদায় করছে তিনগুণ বেশি।

যাত্রীদের মতে, বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা, এমিরেটস, কাতার, টার্কিশ, ফ্লাই দুবাইসহ প্রায় সব এয়ারলাইনসের ভাড়া আকাশচুম্বী।

এ অস্বাভাবিক ভাড়ায় দিশাহারা প্রবাসী কর্মীরা। তারা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান, তার বড় অংশ লুটে নিয়ে যাচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো।

আটাব নেতা শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, টিকিটের দাম বৃদ্ধি ও বুকিং পদ্ধতিতে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দরকার।

এয়ারলাইনসগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় ভাড়া নির্ধারণ করে যাত্রীদের স্বার্থটা দেখতে হবে সবার আগে। গত বছরের এপ্রিল থেকেই আকাশপথের ভাড়ায় অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

প্যান ব্রাইট ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক হাব নেতা রুহুল আমিন মিন্টু বলেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা আগে নিজেদের নামে (প্রতিষ্ঠান) টিকিট ব্লক করে ব্যবসা করত। এখন কৌশল পাল্টে ভিন্ন নামে টিকিট ব্লক করছে।

যে দিন ফ্লাইট ছাড়ার ডেট ঠিক থাকে, তার দুই দিন আগে তারা ওই ফ্লাইটের টিকিট ক্যানসেল করে নতুন নামে আবার টিকিট (পিয়েনার বানায়) কেটে ফেলে।

এভাবে ট্র্যাভেল এজেন্সির একটি সিন্ডিকেট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিদেশগামীদের অনেকটা জিম্মি করেছে। ফলে ২৫-৩০ হাজার টাকার টিকিটের দাম এখন লাখ টাকার ওপরে হয়েছে।

আপনার জন্য আরও খবর

Loading...
,