বাহরাইনের লাল তালিকা থেকে বাংলাদেশ বাদ, কোয়ারেন্টিনেও ছাড়

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে বাহরাইন সরকার সে দেশে ভ্রমণের লাল তালিকা থেকে বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের নাম বাদ দিয়েছে। আগামী রোববার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার বাহরাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।

অপর দেশগুলো হলো-ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, জর্জিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, মালাউয়ি ও ইকুয়েডর।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লাল তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেওয়ায় এখন বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত করোনা টিকার পূর্ণ কোর্স নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশটিতে প্রবেশের পর বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

এ ছাড়া, ফ্লাইটের ওঠার ৭২ ঘণ্টা আগে দেশে পিসিআর পরীক্ষায় নেওয়া করোনা নেগেটিভ সনদেরও প্রয়োজন হবে না। কেবল বাহরাইন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে একবার পিসিআর পরীক্ষা এবং প্রবেশের পর ৫ম ও ১০ম দিনে আরও ২ বার পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে।

এতদিন লাল তালিকায় থাকায় দেশ থেকে বাহরাইনে ফেরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাড়ি ভাড়া চুক্তিতে হোম কোয়ারেন্টিন আর বাড়ি ভাড়া চুক্তি না থাকলে ১০ দিন হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতো।

বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যাদের করোনা টিকার পূর্ণ কোর্স  দেওয়া নেই তাদের আগের নিয়মে বাহরাইনে প্রবেশ করতে হবে।

লাল তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় বাহরাইন সরকারকে টুইট বার্তায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠকরাও এই সিদ্ধান্তে জন্য বাহরাইন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাহরাইন ফেরার ক্ষেত্রে বড় বাধা দূর হয়েছে।

সরকার নিবন্ধিত কমিউনিটি সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আসিফ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাংলাদেশিদের ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হতো। দূতাবাস ও কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, বাড়তি এই খরচ সাধারণ অনেক প্রবাসীদের জন্য বোঝা হয়ে ছিল।’

উল্লেখ্য, প্রায় ১৮ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনে প্রায় ২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বাস করেন।

,