প্রবাসীদের জন্য জরুরি পরামর্শ: বিদেশ যাওয়ার আগে ‘চোখ উঠলে’ ফ্লাইট বাতিল

বাংলাদেশে ‘চোখ ওঠা’ অনেকের কাছেই খুব সাধারণ অসুখ। বেশিরভাগ মানুষই এ রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নেন না।

গত কয়েকদিনের মধ্যে অনেক যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হয়েছে চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে।

কাতারের সব খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

অত্যন্ত সংক্রামক এ রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনগুলো বোর্ডিং না করায় অনেক যাত্রীর বিদেশ যাত্রা হয়নি।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকায় শর্তসাপেক্ষে এ রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের বিদেশ যাত্রার জন্য ‘ফিট ফর ফ্লাইট’ (ভ্রমণের জন্য স্বাস্থ্যগত সুস্থ) সার্টিফিকেট দেবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ।

‘চোখ ওঠা’ হিসেবে পরিচিত চোখের এই অসুখটিকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় বলা হয়, ‘কনজাঙ্কটিভাইটিস’। চোখে ভাইরাসজনিত ইনফেকশনের কারণে এ রোগ হয়।

চোখ উঠলে চোখ লাল হয়, চোখে চুলকায়, ব্যথা হয়। দেশের বেশিরভাগ মানুষই এ রোগে চিকিৎসা নেন না।

কারণ ৫/৬ দিনে এমনিতেই এ রোগ সেরে যায়। তবে এ রোগ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির খবর

একটি এয়ারলাইনের কর্মকর্তা বলেন, একজন যাত্রী চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হলে ফ্লাইটের অন্য যাত্রীরাও ঝুঁকিতে পড়বেন, এ কারণে বোর্ডিং দেওয়া হতো না।

উড়োজাহাজের অনেক যাত্রী থাকেন, কেবিন ক্রুরা থাকেন তাদের সুরক্ষার জন্য এটি করা হয়।

এছাড়া একই ফ্লাইটে অনেক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরগুলো থেকেও নোটিশ এসেছে।

চোখ ওঠার কারণে অনেক যাত্রীর বিদেশ যাত্রা হয়নি গেলো এক সপ্তাহে। সংক্রামক রোগ হলেও এ রোগে আক্রান্তদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

তবে অন্য যাত্রীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনা করে এয়ারলাইনগুলো এ রোগে আক্রান্তদের ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি বেশির ভাগ এয়ারলাইন।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক কছেরে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখান বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের অবস্থা বিবেচনা করে বিদেশ যাত্রার জন্য ‘ফিট ফর ফ্লাইট’ (ভ্রমণের জন্য স্বাস্থ্যগত সুস্থ) সার্টিফিকেট দেবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ।

তবে এজন্য বেশি কিছু নির্দেশনা মানতে হবে যাত্রীকে। যারা বিদেশ যাবেন তাদের চোখ ওঠা রোগ আক্রান্ত যাতে না হন এজন্য সর্তক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেউ যদি আক্রান্ত হন তাকে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে হবে।

আর অবশ্যই কালো চশমা পড়ে বিমানবন্দরে আসতে হবে।

চোখ ওঠা রোগের আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে ৭ দিন পার হওয়ার পর কেউ বিমানবন্দর আসলে ‘ফিট ফর ফ্লাইট’ সার্টিফিকেট দেবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, পরিবারের কেউ চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হলে সতর্ক হতে হবে বিদেশগামী যাত্রীদের।

ময়লা হাতে চোখ স্পর্শ করা যাবে না।

অন্যের ব্যবহার করা গামছা বা টাওয়াল চোখ মুখ মোছার জন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, এ রোগে আক্রান্ত কেউ বিদেশ যেতে বিমানবন্দরে আসলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে।

যাত্রী আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়েছেন, সঙ্গে ওষুধ আছে, চোখের অবস্থা দেখে তাকে ‘ফিট ফর ফ্লাইট’ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

কেউ চিকিৎসা না নিয়ে শুধু প্রেসক্রিপশন তৈরি করে নিয়ে আসলেন, তার চোখের অবস্থা ভালো না হলে ‘ফিট ফর ফ্লাইট’ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, চোখ ওঠা সংক্রমণ রোগ, এয়ারলাইনগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের ‘ফিট ফর ফ্লাইট’ সার্টিফিকেট দেখে যাত্রীদের বোর্ডিং করবে।

যারা বিদেশ যাবেন, তাদের সর্তক থাকতে হবে।

কোনওভাবে চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

কাতারের আরও খবর

বাংলা ট্রিবিউন

Loading...
,