‘বিনা দোষে’ সৌদিতে দণ্ড: আবুল বাশারের জন্য আপিল করল বাংলাদেশ

সৌদি আরবে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে কৌশলে তাঁর ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০ বছরের কারাদণ্ড হয় আবুল বাশারের। তাঁর প্রতারিত হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে দণ্ড বাতিলের জন্য সৌদি আরবের আদালতে আপিল আবেদন করেছে বাংলাদেশ।

 সোমবার জেদ্দা কনস্যুলেট এক চিঠিতে পররাষ্ট্র সচিব ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিবকে এ তথ্য জানিয়েছে।

জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সেলর আমিনুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আপিল আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আমিনুল ইসলাম ছাড়াও কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. আরিফুজ্জামান এবং অনুবাদক ও আইন সহকারী সালেহ আহমেদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিলেন।

আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁরা ঢাকা থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে পাঠানো কাগজপত্র, প্রতিবেদন, ভিডিও ক্লিপ, কনস্যুলেট থেকে পাঠানো ‘নোট ভারবাল’, চিঠি, রায় পর্যালোচনা ইত্যাদি পারিপার্শ্বিক অবস্থার সার্বিক বিশ্লেষণ করেন।

এরপর কনস্যুলেটের আইন সহকারীদের সহায়তা ও কয়েকজন আইনজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আবুল বাশারের পক্ষে আপিল আবেদন প্রস্তুত করেন। নির্দোষ হয়েও আবুল বাশারকে যেন দণ্ড ভোগ করতে না হয়, সেজন্য আইনজীবী নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে কনস্যুলেট চিঠিতে জানিয়েছে।

ওই একই চিঠিতে আবুল বাশারের পক্ষে সম্ভাব্য যে আইনজীবী আইনি লড়াই করবেন, তাঁদের নামের তালিকাও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনজীবীর খরচ বাবদ ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে কনস্যুলেট। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে আইনজীবী নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আবুল বাশারের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছে কনস্যুলেট।

গত ১১ মার্চ সৌদি আরবে যাওয়ার পথে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি কৌশলে আবুল বাশারের ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন। নূর মোহাম্মদ বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার হিসেবে ওই সময় কাজ করতেন। জেদ্দা বিমানবন্দরে আবুল বাশারের ব্যাগ থেকে ৪ হাজার ৯৮০টি ইয়াবা উদ্ধার হলে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

ঘটনাটি জানার পরই জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আদালতকে অবহিত করেন। কিন্তু তারপরও কারাদণ্ড দেওয়া হয় আবুল বাশারকে।

আইনজীবী হিসেবে জেদ্দা কনস্যুলেট পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করেছে। তাঁরা হলেন, আইনপেশায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাবেক বিচারক খালেদ আলি আল আসিরী, আট বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আবদুল আজিজি জায়েদ মুজাখখাস আল মুতাইরি, আঠার বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফায়েজ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সোলামি, দশ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মাজিদ খিজির আল আতুবি এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আবদুল্লাহ আল জাহরান। কনস্যুলেটের প্রথম পছন্দ সাবেক বিচারক খালেদ আলি আল আসিরী।

,