বিরল ঘটনায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ স্থগিত: সমন্বয়হীনতা ঘটল কোথায়?

৪ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের কোয়ারেন্টিন বিধিভঙ্গের অভিযোগে নাটকীয়ভাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ স্থগিত হওয়ার পর শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা।

আসলেই কি আছে স্বাস্থ্যবিধিতে? সমন্বয়হীনতা ঘটল কোথায়?

ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কোভিড প্রটোকোলেই বা কী জটিলতা। মূলত এই জটিলতার কথা কদিন ধরেই ছিল আলোচনায়। যার কারণে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলা ৯ ফুটবলারকে বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য দলে নিতে পারেনি ব্রাজিল।

বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে প্রথম একাদশে নিশ্চিত জায়গা পাওয়ার মতো কয়েকজন ফুটবলারসহ ব্রাজিলের না পাওয়া ফুটবলাররা হলেন, অ্যালিসন বেকার, রবার্তো ফিরমিনো (লিভারপুল), এডারসন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), থিয়াগো সিলভা (চেলসি), ফ্রেড (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রিচার্লিসন (এভারটন) রাপিনহা (লিডস)।

এদেরকে ছাড়াই চিলির বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বাছাইপর্বে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। সমান ৭ ম্যাচ খেলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আর্জেন্টিনা।

মূলত ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের দুই দেশের স্বাস্থ্য বিধিতে একে অন্যের জন্য আছে কড়াকড়ি। যুক্তরাজ্য থেকে কোভিডের কারণে  লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ব্রাজিলকে, ব্রাজিল থেকেও লাল তালিকায় যুক্তরাজ্য।

এই সময়ে কেউ ব্রাজিল ভ্রমণ করলে যুক্তরাজ্যে ফিরে করতে হবে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিন। আবার যুক্তরাজ্য থেকে ব্রাজিলের নাগরিক ছাড়া কেউ ব্রাজিলে সরাসরি প্রবেশই করতে পারবেন না। প্রবেশ করতে হলে নিতে হবে বিশেষ অনুমতি। আবার প্রবেশ করার পরও করতে হবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন।

ব্রাজিল থেকে ফিরে কোয়ারেন্টিনের এই জটিলতার কারণে এত লম্বা সময়ের জন্য ফুটবলারদের ছাড়তে রাজী হয়নি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। ব্রাজিলকে তাই অন্য লিগ থেকে খেলা আরও ৯ ফুটবলার দলে ভিড়িয়ে সংকট কাটাতে হয়।

কোভিডের তেমন বাড়াবাড়ি প্রকোপ না থাকায় আর্জেন্টিনার বেলায় যুক্তরাজ্যের এমন কোন কড়াকড়ি নিয়ম নেই। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের ৪ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের  এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম।

প্রথমত এই ফুটবলাররা সরাসরি ইংল্যান্ড থেকে ব্রাজিলে যাননি। তারা বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে প্রথমে নিজ দেশ আর্জেন্টিনা এবং ভেনেজুলায় গিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে থেকেই প্রবেশ করায় তারা ব্রাজিলে ঢুকতে পেরেছেন অনায়াসে।

কিন্তু ১৪ দিনের মধ্যে তারা তাদের ইংল্যান্ডে অবস্থানের তথ্য সামনে এলে বেঁকে বসে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগ। আয়োজক কনমেবল ও ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার তৈরি করে এক নাটকীয় পরিবেশের। খেলার মধ্যে ম্যাচ আটকাতে মাঠে ছুটে আসেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

অথচ ব্রাজিলে সরকার কনমেবল ও ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) অনুরোধে মেনে নিয়ে চার ফুটবলারকে খেলতে দিতে রাজি হয়েছিল। স্বাস্থ বিভাগ (আনভিসা) সেটা প্রত্যাখ্যান করে। 

বাছাইপর্বের ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিট পর তা স্থগিত করে ফেলা হয়। স্থগিতের কথা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ফিফাও। প্রশ্ন উঠেছে তিন দিন ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ব্রাজিলে থাকলেও আগে কেন ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও জানিয়েছেন, এমি মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, জিওভান্নি লো সেলসো ও এমি বুয়েন্দিয়ার- এই চারজন খেলতে পারবেন না এমন কোন আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি তাকে।

স্থগিত এই ম্যাচের ভাগ্য কি হবে,  প্রাশাসনিক ব্যর্থতায় ব্রাজিলের পয়েন্ট কাটা যাবে কিনা  এই অস্পষ্টতাও দূর হয়নি।

,