ভারতীয় ফুটবল সংস্থাকে নিষিদ্ধ করল ফিফা

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে এ বছর এপ্রিলে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনকে (পিএফএফ) নিষিদ্ধ করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

১ জুলাই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। তার ঠিক দেড় মাস পর এবার ফিফার নিষেধাজ্ঞা পেল পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত।

অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এখানেও কারণ তৃতীয় পক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।

১৫ আগস্ট ছিল ভারতের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস। সেদিন স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে নিষেধাজ্ঞার খবরটি জানিয়ে দেয় ফিফা।

তাতে ভারতীয় ফুটবলে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কেননা সামনেই ছিল আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া মিলিয়ে একগুচ্ছ ফুটবল আয়োজন।

ভারতীয় ফুটবলের সংকট মেটাতে হস্তক্ষেপ করেন সুপ্রিম কোর্ট। তাতেই ক্ষুব্ধ হয় ফিফা। বিবৃতিতে বলা হয়, এআইএফএফের নিজেদের প্রাত্যহিক কাজে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

কাতারের সব খবর আপনার হোয়াটসঅ্যাপে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়া এবং এর পরের নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয় সংকট।

মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও নতুন নির্বাচন না দিয়ে তিনি অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন। মামলা হলে একে ‘আইনের পরিপন্থী’ বলে রায় দেন আদালত।

গত মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট এআইএফএফ প্রশাসকদের একটি কমিটি (সিওএ) ঠিক করে দিয়েছিলেন। বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এর মধ্যে সিওএ আদালতে অভিযোগ করে, প্যাটেল এখনো ফেডারেশনের কাজে পেছন থেকে হস্তক্ষেপ করছেন। তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও করে সিওএ।

গোটা বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে এল ফিফার নিষেধাজ্ঞা। সিওএর কর্মকর্তারা তাই বিস্মিতই।

সিওএর দাবি, গত ৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা যেন মানা হয় সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছিল। তার মধ্যে হঠাৎ কেন এআইএফএফকে নিষিদ্ধ করল ফিফা, তা বোধগম্য নয়।

ফিফার অভিযোগ, আদালত তথা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কমিটি ভেঙে দেয়া কিংবা কমিটি তৈরি করে দেয়া নিয়ে। এমনটাই স্পষ্ট করে বলা আছে ফিফার নিয়মে।

ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও এ নিয়ে বারবার যোগাযোগ করে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাতেও কাজ হয়নি।

ফিফা বলছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে যখন নির্বাচিত এআইএফএফ নির্বাহী কমিটি ক্ষমতা গ্রহণ করবে ও তারা বোর্ডের প্রাত্যহিক কাজে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে।

ফিফা জানায়, ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং এখনো ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।

কঠিন সংকটের আবর্তেই পড়ে গেল ভারতের ফুটবল। এ নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ভারতের কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টকে স্বীকৃতি দেবে না ফিফা ও তার অধিভুক্ত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।

ভারতীয় জাতীয় দলও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে না। এএফসি নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার জন্য ভারতের গোকুলাম কেরালা নারী দল এখন রয়েছে উজবেকিস্তানে।

যদিও ফিফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ায় গোকুলাম কেরালার নারীরা এ টুর্নামেন্টে আর খেলতে পারবে না। এছাড়া এএফসি কাপ ও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও অংশ নিতে পারবে না ভারতের কোনো ক্লাব।

আরো বড় ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ায় ভারতে এখন আর এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে না এবং এ টুর্নামেন্টে ভারতের দলও অংশ নিতে পারবে না।

ফিফার নিষেধাজ্ঞা ভারতের ফুটবলে এখন হাহাকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ভারতের সাবেক কৃতী স্ট্রাইকার বাইচুং ভুটিয়া এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বললেন, ভারত ফুটবলকে নিষিদ্ধ করাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার।

একই সঙ্গে আমি মনে করি ভারত ফুটবলকে নিষিদ্ধ করে কঠিন সিদ্ধান্তই নিয়েছে ফিফা। নিজেদের সবকিছু ঠিক করে ফেলার এটা দারুণ সুযোগ।

এজন্য ফেডারেশন, রাজ্য সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং সবই করতে হবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের জন্য।

এর আগে এ বছর এপ্রিলে ও ২০১৭ সালে দুই দফায় পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনকে নিষিদ্ধ করে ফিফা। অতীতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

তবে ৮৫ বছরের ইতিহাসে এআইএফএফ এ প্রথম নিষিদ্ধ হলো। উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সালের ২৩ জুন এআইএফএফ গঠিত হয়।

ফিফা র্যাংকিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে ভারত। তারা রয়েছে ১০৪ নম্বরে। এছাড়া মালদ্বীপ ১৫৬ নম্বরে, নেপাল ১৭৬, ভুটান ১৮৬ ও বাংলাদেশ ১৯২ নম্বরে রয়েছে।

আর পাকিস্তান রয়েছে বাংলাদেশেরও পেছনে, ১৯৬ নম্বরে। সবার শেষে ২০৭ নম্বরে দ্বীপদেশ শ্রীলংকা।

কাতারের আরও খবর

বণিক বার্তা

Loading...
,