যেকোনো দেশ থেকে হিসাব খোলা ও লেনদেন করা যাবে সোনালী ব্যাংকে

সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সোনালী ব্যাংক নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্মার্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সোনালী ব্যাংক অনেক দূর এগিয়েছে।

কাতারের সব খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমান সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: আফজাল করিম দায়িত্ব গ্রহণ করেন গত বছরের ২৮ আগস্ট।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি প্রযুক্তিনির্ভর সেবার পরিধি বৃদ্ধির নানান উদ্যোগ নেন।

এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সোনালী ই-সেবা মোবাইল অ্যাপের আইওএস ভার্সনের মাধ্যমে বিদেশ থেকে হিসাব খোলা, ই-ওয়ালেট মোবাইল অ্যাপের আইওএস ও এন্ড্রয়েড ভার্সনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ হতে লেনদেন এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন সেবার উদ্বোধন করা হয়।

এর ফলে চেক বই ও স্বাক্ষর যাচাই করা ছাড়াই যেকোনো শাখা হতে কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন গ্রাহকরা।

কাতারে চাকরি খুঁজছেন? এখানে ক্লিক করুন

মূলত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দিতে এবং দেশের অভ্যন্তরে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে স্মার্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার লক্ষে বর্তমানে সোনালী ব্যাংক এসব সেবা চালু করে।

এছাড়া গত ১৫ মার্চ সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো ২৪ ঘণ্টা কল সেন্টার সেবা চালু করে সোনালী ব্যাংক।

কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহক ও নাগরিকরা ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা, কার্ড, আমানত ও ঋণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো জিজ্ঞাসা ও সমস্যা বিষয়ে তথ্য ও সেবা পাবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সেবা চালুর বিষয়ে দেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: আফজাল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে সোনালী ব্যাংক।

ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি অনেক দূর এগিয়েছে। প্রতিনিয়ত ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য এবং আরো প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে করোনাকালীন সময় হতে সোনালী ব্যাংক বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছে।

বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর আরো নানান সেবা যুক্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনসহ কল সেন্টারের মতো সর্বাধুনিক সেবা আমরা চালু করেছি।

তিনি আরো বলেন, সোনালী ব্যাংকের রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিগত ব্যাংকিংসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

যার ফলে এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংকটির মোট ১২২৯টি শাখাই অনলাইন ব্যাংকের আওতায়।

করোনাকালী থেকে ডিজিটাল ব্যাংকিংসেবায় জোর দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। সেসময় ঘরে বসেই মানুষকে ব্যাংকিং সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের তুলনায় সোনালী ব্যাংক অনেক এগিয়ে ছিল।

প্রসঙ্গত, দেশের বৃহত্তম এই ব্যাংকটিকে একটি আদর্শ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের মার্চ মাসে সোনালী ই-সেবা অ্যাপ চালু করা হয়।

অ্যাপটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৭টি হিসাব খোলা হয়েছে। একই বছরের ১৭ মার্চ চালু করা হয় সোনালী ই-ওয়ালেট সেবা।

চলতি মাস পর্যন্ত যার হিসাব সংখ্যা তিন লাখ ৯১ হাজার ৩১২টি। এই অ্যাপস দুটি চালুর ফলে হিসাব খোলা, টাকা ট্রান্সফার, বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল প্রদান, পাসপোর্ট ও ট্যাক্সের টাকা প্রদানসহ বিভিন্ন কাজে গ্রাহকদের আর ব্যাংকে আসতে হয় না।

ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ১০ হাজার ৬৫টি লেনদেন হচ্ছে। এ ছাড়া গ্রাহকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন, কেনাকাটা, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে পারেন।

সোনালী ব্যাংকের ব্লেজ নামীয় সার্ভিসের মাধ্যমে প্রবাসী গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ মাত্র ৫ সেকেন্ডে নিজ হিসাবে জমা করতে পারেন।

এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয় দেশে আনতে ২০১৭ সালে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক প্রথম চালু করে পেপাল ইনওয়ার্ড সার্ভিস। এর মাধ্যমে মাত্র ১ সেকেন্ড সময়ে দেশে টাকা আনা যায়।

আপামর জনসাধারণের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাও চালু করেছে সোনালী ব্যাংক।

এখান থেকে হিসাব খোলা, টাকা জমা ও উত্তোলন, আমানত রাখা, ঋণসুবিধা, বিভিন্ন বিল জমা, রেমিট্যান্সসহ সব ব্যাংকিং সেবা দেয়া হয়।

আরো পড়ুন

নয়াদিগন্ত

Loading...
,