যেভাবে পশ্চিমাদের ভুল উপস্থাপনার শিকার আয়োজক দেশ কাতার

সকল সমালোচনাকে পেছনে ফেলে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ পর্দা উঠে কাতারে। তবে, কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই নানা বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলো এর সমালোচনা করে আসছিল। সাবেক ফিফা সভাপতি কিছুদিন আগেও বলেন, কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

কাতারকে নিয়ে তীব্র সমালোচনার বিষয়ে ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, কাতারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা একধরনের ‘ভণ্ডামি’।

কাতারের সব খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

তবে হাজারো সমালোচনার মাঝেও কিছু কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যমে কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টের এক লেখায় কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনের সমর্থনে কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়। এছাড়া স্কটিশ সংবাদপত্র দ্য হেরাল্ডও পশ্চিমা দেশগুলো কাতারের সমালোচনা করতে পারে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে।

এখানে ক্লিক করুন এবং পছন্দের চাকরি বেছে নিন

কাতারে গণতন্ত্র নেই। আর এজন্য অভিবাসী শ্রমিকদের করুণ ভাগ্যই বরণ করে নিতে হয় সে দেশে। যৌন-স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পশ্চিমা দেশকে ‘মানদণ্ড’ হিসেবে ধরলে তার তুলনায় পিছিয়ে কাতার।

কিন্তু এ কথাগুলো গতবছর বিশ্বকাপ আয়োজন করা রাশিয়ার জন্যও প্রযোজ্য। সম্প্রতি অলিম্পিক আয়োজনকারী দেশ চীনও এ বিবৃতিগুলোর সত্যতা থেকে নিজেকে আড়াল করতে পারবে না।

কাতারের বিরুদ্ধে এমন সমালোচনাকে কাতারকে একটি পুরোদস্তুর স্বৈরাচারী রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে পশ্চিমারা। আবার এমন কিছু সমালোচনাও রয়েছে যেগুলো শুনে মনে হয় তারা মুসলিম বা ধনীদের পছন্দ করে না।

কাতার গণতান্ত্রিক দেশ না হতে পারে, তবে পশ্চিমা সংবাদপত্রের এডিটোরিয়াল কার্টুনে দেখানো স্বৈরাচারী দেশও নয় এটি।

দেশটির আগের আমির কোনো প্রকার চাপে না থেকেও কাতারে একপ্রকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন। আল জাজিরার মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও কাজ করেছেন তিনি।

সেগুলোর সাথে তুলনা করলে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ায় বর্তমানে যা চলছে তা আরও নিন্দনীয়। আর চীনে তো কোনো রাজনৈতিক ভিন্নমতের স্থানই নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের কোনো দেশের তুলনায় কাতারে বিদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ অনেক বেশি। দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ কাতারি, বাকিরা বাইরের থেকে আসা মানুষ, যারা কাজের খোঁজে দেশটিতে পা রেখেছেন। 

এ কথা সত্য যে কাতারে মাঝেমধ্যে অভিবাসী শ্রমিকরা বিরূপ আচরণের শিকার হন, তবে তারা যে পরিমাণ অর্থ আয় করেন সেটা তাদের জীবনকেই বদলে দিয়েছে।

এ কারণেই এত বেশি শ্রমিক কাতারে কাজ করতে যান। দুইবার অলিম্পিক আয়োজনে করে চীন, কিন্তু তারপরও দেশটির গণতন্ত্রে কোনো উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগে কাতারের শ্রম আইনে উন্নয়ন ঘটেছে।

স্কটিশ সংবাদপত্র দ্য হেরাল্ড-এর সাবেক উপসম্পাদক কেভিন ম্যাককেনা লিখেছেন, সৌদি আরবেও নারী ও সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হন৷

অথচ দেশটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম একটি মিত্রদেশ। তিনি বলেন, যৌনতা, সমকামিতা ইত্যাদি নিয়ে সৌদি আইন; মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে জামাল খাশোগির হত্যায় জড়িত থাকার পশ্চিমা গোয়েন্দাসংস্থাগুলোর অভিযোগ ইত্যাদি প্রসঙ্গে কখনোই বিশেষ উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য ‘প্রগতিশীল’ পশ্চিমা দেশগুলোকে।

কাতারকে নিয়ে আরেকটি সমালোচনা হচ্ছে। সেটি হলো তারা অর্থের জোরে বিশ্বকাপের আসর কিনে নিয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে জনসমক্ষে কোনো পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর যদি এটি সত্যও হয় তাহলে তা কাতারের চেয়ে ফিফা’র দুর্নীতির দিকটাই বেশি ইঙ্গিত করে।

কাতারের আরেকটি দিক নিয়ে বেশ সমালোচনা হলো। আর সেটি হলো পরিবেশগত বিষয়। তীব্র গরম আবহাওয়ায় বিশ্বকাপ আয়োজন করায় ব্যাপক সমালোচিত হয় কাতার।

কিন্তু এই গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্টেডিয়ামগুলোতেও শীতলীকরণ ব্যবস্থা করেছে কাতার। যদিও এ নিয়ে রয়েছে সমালোচনা।

এর ফলে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হবে বলে বিতর্ক তৈরি হলেও ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার দাবি এ বিশ্বকাপে যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, তা এ বছরের মোট বৈশ্বিক নিঃসরণের কেবল ০.০১ শতাংশ।

ফিফা যদি ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেনের মত দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে না চায়, তাহলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ ক্রীড়া আসরটি আয়োজন করার জন্য সংস্থাটির কাছে কোনো অবিসংবাদিত জায়গা নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে প্রচুর ফুটবল ভক্ত। এর আগে কোনো মুসলিম দেশেও বিশ্বকাপের আসর বসেনি। সবমিলিয়ে, এমন কোনো স্থানে যদি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে হয় সেক্ষেত্রে কাতারই সবদিক থেকে এগিয়ে থাকবে।

আরও খবর পড়ুন

চ্যানেল২৪

Loading...
,