কাতারে আল বাইক দ্বন্দ্ব: যে কারণে মামলা করছে সৌদি মালিক

সৌদি আরবের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ জায়ান্ট আল-বাইক সম্প্রতি কাতারে চালু হওয়া নকল কাতারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘আল-বাইক ব্রোস্ট অ্যান্ড পিৎজা’-এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

জানুয়ারিতে স্থানীয় একটি ‘কাতারি অ্যাফেয়ার্স’ নামক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, সৌদি আরবের ‘আল বাইক’ দোহা আসছে।

নিউ আলরাইয়ান সড়কে প্রায় একই লোগো ও নামের একটি রেস্তোরাঁ কাতারে আলোড়ন তুলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই রেস্তোরাঁর খাবারের স্বাদ নিতে আসছেন। অনেক অপেক্ষমাণ সারিতে ৯০ মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকছেন।

এমন অবস্থায় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে চাইছেন বিখ্যাত সৌদি চেইন রেস্তোরাঁ ‘আল-বাইক ফুড সিস্টেমস কোম্পানি’-এর সঙ্গে এই ‘আল-বাইক ব্রোস্ট অ্যান্ড পিৎজা’ সম্পর্কিত কিনা।

সৌদি রেস্তোরাঁটি টুইটারে সাড়া দিয়ে জানিয়েছে, এর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা উল্লেখ করেছে, কাতারের নকল রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

নকলের অভিযোগ ওঠা রেস্তোরাঁটি ইন্সটাগ্রামে দাবি করেছে, তারা শতভাগ কাতারি প্রকল্প। আর তাই নকলের অভিযোগ তাদেরকে অবস্থান স্পষ্ট করতে হচ্ছে।

আল-বাইক কী এবং কেন এটা নিয়ে আলোচনা?

আল-বাইক একটি ফাস্টফুড চেইন রেস্তোরাঁ। সৌদি আরবে ১৯৭৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন শাকৌর আবুগাজালাহ। এরপর থেকে এটি সুখ্যাতি অর্জন করে।

রেস্তোরাঁটি ১৮ মসলার গোপন রেসিপি সৌদি আরবজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে শুধু সৌদিতেই এই চেইনের ৭০টির বেশি শাখা রয়েছে।

Image

৫০ বছর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আল-বাইক নিজস্ব স্বতন্ত্রতা তৈরি করেছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশের মানুষ এর স্বাদ নিতে আসছেন সৌদি আরবে।

২০১৬ সালে জেদ্দা বিমানবন্দরে একটি শাখা চালু হয়। এখানে ভ্রমণকারীরা বিখ্যাত এই মুরগির মাংস কিনে নিয়ে যান দেশে নিজেদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য। হজ ও ওমরাহতে যাওয়া মুসল্লিরা এই রেস্তোরাঁর খাবারের স্বাদ নেন।

ইন্দোনেশিয়াতে এর একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস তৈরি হয়েছে। এতে সৌদি আরব থেকে খাবারে বাক্স পাঠানো হয়।

Image

দুবাই মল-এর ফুড কোর্টে প্রথম যখন এই রেস্তোরাঁ চালু হয় তখন যে এক ঘণ্টার বেশি সময় মানুষদের লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে, তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

দুবাই এক্সপো ২০২০-এর প্রথম দিনেই সৌদি আরবের রেস্তোরাঁটি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে।

কানাডার এক সাংবাদিক অ্যাশলেই স্টুয়ার্ট টুইটে লিখেছিলেন, এক্সপো২০২০-এ দীর্ঘতম লাইন দেখেছি সৌদি আরবের ফ্রাইড চিকেন চেইনে।

টুইটারে প্রতিক্রিয়া

নকলের অভিযোগের বিষয়টি টুইটার ব্যবহারকারীদের নজর এড়ায়নি। এক ব্যবহারকারী কাতারি রেস্তোরাঁটির নকল করা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে।

কেউ কেউ রেস্তোরাঁটির পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন। লোগো ও নামে যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে তা তুলে ধরে কাতারি রেস্তোরাঁর পাশে থাকার আহবান জানাচ্ছেন।

ব্র্যান্ডের অবিকল প্রতিরূপের আরও নমুনা

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে অবিকল অনুকরণের উদাহরন এটিই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় হবহু অনুকরণ করেছে।

কেউ কেউ কাতারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানেরও অনুকরণ করেছে।

এটা কি অবৈধ?

কাতারের আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট আল মিজান উল্লেখ করেছে, দেশের জিসিসি ট্রেডমার্ক আইনের ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সীমান্ত ছাড়িয়ে সুপরিচিত আন্তর্জাতিক সেবা ও পণ্যের হুবহু বা অবিকল ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য অনুমোদন যোগ্য নয়।

একমাত্র ব্যতিক্রম হলো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের মালিকের অনুরোধ বা তার অনুমতির ভিত্তিতে নিবন্ধন দেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে কোন ট্রেডমার্ককে নিবন্ধন বা বিবেচনা করা যাবে না যেগুলো: জনগণকে বিভ্রান্ত করে বা পণ্যের উৎস, সেবা বা বিবরণ সম্পর্কে মিথ্যা ইঙ্গিত দেয় এবং ভুল তথ্য, অনুকরণ বা নকল বাণিজ্যিক থাকে।

আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রতিষ্ঠিত ট্রেডমার্ক বা এর আংশিক প্রতিলিপি, অনুকরণ বা অনুবাদ বেআইনি বিবেচনা করা হবে। কারণ এই ট্রেডমার্ক মূল প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত দিতে পারে।

কাতারের সব খবর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পেতে এখানে ক্লিক করে যুক্ত হোন গালফ বাংলা গ্রুপে

কাতারের আরও খবর

গালফ বাংলা

Loading...
,