ঢাকায় ৮ ঘণ্টা ফ্লাইট বন্ধ: আশঙ্কায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ ডিসেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এতে বিমানবন্দরের সেবা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কয়েকটি এয়ারলাইন্স।

কর্তৃপক্ষ তৃতীয় টার্মিনালের জন্য ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ করায় রানওয়ে বন্ধ রাখতে হবে।

৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকলে কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস, তুর্কি এয়ারলাইনস এবং মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের পরিচালিত ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

এয়ারলাইন অপারেটররা জানায়, ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮৫-৯০টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে হবে। এতে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবার ওপর মারাত্মকভাবে চাপ পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদেশি এয়ারলাইন্সের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগে থেকে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধা না বাড়ালে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘১৬ ঘণ্টার মধ্যে সব ফ্লাইট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চেক-ইন কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, নিরাপত্তা চেক-ইন কাউন্টার, লাগেজ লোডিং এবং আনলোডিং সুবিধাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধার প্রয়োজন।’

তবে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) মনে করে, রানওয়ে বন্ধের ফলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

সিএএবি জানায়, তারা ইতোমধ্যেই এয়ারলাইন অপারেটর এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং কোনো ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদ্যোগের মধ্যে আছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য জনবল বাড়ানো।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে রানওয়ে বন্ধ থাকায় ফ্লাইট বিলম্ব বা পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

১০ ডিসেম্বর থেকে রানওয়ে বন্ধের সময় জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে এয়ারলাইন্সগুলোকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ২৭টি এয়ারলাইন্স ৮৫ থেকে ৯০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রায় ১০ হাজার যাত্রী এখান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে যান।

Loading...
,