সৌদি থেকে ফেরার হার বাড়ছে

কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় বেকার তরুণদের একটি বড় অংশই সামান্য সচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে। তারা কখনো বৈধ পথে, কখনো অবৈধ পথে বিদেশের পথে পা বাড়ায়।

বলা বাহুল্য, অবৈধ পথে পাড়ি জমানোদের একটি বড় অংশই প্রতারিত হয়। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের শিকার হয়।

কাতারের সব খবর সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মরুভূমিতে, ভূমধ্যসাগরে কিংবা অন্য কোনো পথে অনেককে জীবনও দিতে হয়। যাঁরা বৈধ পথে যান, তাঁদেরও নানা ধরনের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।

প্রতিশ্রুত কাজ কিংবা বেতন না পেয়ে কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেককে দেশে ফিরে আসতে হয়। জমি-সম্পদ বিক্রি করে কিংবা ঋণ করে বিদেশে যাওয়া এসব কর্মী যখন ফিরে আসেন, তখন তাঁদের বা পরিবারের দুর্দশার সীমা থাকে না।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, সরকারি হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে সৌদি আরবে গেছেন চার লাখ ৫১ হাজার ৫০২ জন কর্মী। আর অভিবাসন গবেষণা সংস্থা রামরুর হিসাবে, সৌদি আরবে প্রতি মাসে যত কর্মী যান তার ১৪ শতাংশই সহসা দেশে ফেরত আসেন।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

আর এক বছরের মধ্যে ফেরত আসেন ৪৯ শতাংশ কর্মী। তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর কাজে যুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমিতি বায়রা বলছে, আগে পরিস্থিতি এমন থাকলেও বর্তমানে ফেরত আসার সংখ্যা অনেক কম।

বিদেশে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব। এখনো বাংলাদেশের প্রবাস আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে এই দেশটি থেকে। কিন্তু সেই শ্রমবাজারটিও এভাবে সমস্যাগ্রস্ত হওয়ায় সামগ্রিক শ্রম রপ্তানিতেই তার প্রভাব পড়ছে।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা সংকটে আছে সৌদি শ্রমবাজার। তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধবিবাদ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ আরো অনেক কারণেই দেশটির অর্থনীতি কিছুটা নাজুক অবস্থায়।

করারোপের মাত্রা বাড়ছে। বাড়ছে পণ্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়। কাজের ক্ষেত্রও ক্রমেই কমে আসছে। দেশটির নিজস্ব লোকজনই ক্রমেই বেশি করে বেকারত্বের শিকার হচ্ছে।

ফলে সরকারি সিদ্ধান্তে অনেক ধরনের কাজে বা সেবায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে অনেক বাংলাদেশিকে সৌদি আরব পাঠাচ্ছে। তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন।

৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের কথা বলে নিয়ে গেলেও দেখা যায়, বেতন দেওয়া হয় অর্ধেকেরও কম। এতে নিজেরই থাকা-খাওয়া হয় না। বাড়িতে টাকা পাঠানোর সুযোগই থাকে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, দক্ষ কর্মী না পাঠানোর কারণেই সমস্যা বেশি তৈরি হচ্ছে। অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এর জন্য দায়ী দুই দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।

সৌদি শ্রমবাজারের এই অবস্থায় শুধু যে বিদেশগামী কর্মীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা নয়, দেশের প্রবাস আয়ও কমে যাচ্ছে। দেশের শ্রমবাজারে বেশি করে চাপ তৈরি হচ্ছে।

তাই সরকারকে বিষয়টি জরুরি বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কর্মকা- কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে হবে।

কাতার এয়ারওয়েজে চাকরির খবর দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন

কুমিল্লার কাগজ

Loading...
,