সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২০ |

দূতাবাসে গৃহকর্মীর পদ সৃষ্টির মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান

বাংলাদেশ ডেস্ক |  শনিবার ৮ই জুলাই ২০১৭ বিকাল ০৫:৪০:২৭
দূতাবাসে

গালফ বাংলা: বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে গৃহকর্মীর পদ সৃষ্টির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব দুই দফায় প্রত্যাখান করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দুটি ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি কোনো পদ না থাকায় বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে নিয়োগ পাওয়া কূটনীতিকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহকর্মী নিয়োগ দিয়ে জটিলতার মুখে পরছেন, যা ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গৃহকর্মীর দেয়া মামলায় কূটনীতিক আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ম্লান হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শ্রমিকদের ন্যুনতম বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি নির্ধারিত রয়েছে। নির্ধারিত এই বেতন-ভাতা বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশের জীবনযাত্রার মানের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক বিদেশী মিশনে যোগ দেয়ার পর সরকারের কাছ থেকে যে বেতন পান, তা দিয়ে উন্নত দেশগুলোর নির্ধারিত হারে গৃহকর্মীদের বেতন দেয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে মৌখিক সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নেয়া গৃহকর্মীদের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেক গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া বা বড় অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রত্যাশায় সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় শ্রম আইনের আওতায় মামলা ঠুকে দেন। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন সফল হওয়ায় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীদের মামলা করার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতও একই ধরনের সমস্যায় রয়েছে। গৃহকর্মীর মামলাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানিকে হেনস্তা করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশটির সম্পর্কে টানাপোড়েন, এমনকি পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া পর্যন্ত গড়িয়েছিল। গৃহকর্মী ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী কূটনীতিকদের সাম্প্রতিক জটিলতাও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশী মিশনগুলোতে এমএলএসএসের (পিয়ন) মতো কূটনীতিকদের জন্য গৃহকর্মীর পদ সৃষ্টির মাধ্যমে এই জটিলতার অবসান ঘটানো সম্ভব। কারণ দূতাবাস ও হাইকমিশনের স্টাফরা বাংলাদেশের সরকার নির্ধারিত বেতন-ভাত পেয়ে থাকেন। তাই এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রযোজ্য হয় না। পদ থাকলে কূটনীতিকদের গৃহকর্মীও বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত হারেই বেতন-ভাতা পাবেন। এতে গৃহকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আসবে। গত কয়েক বছরে নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কনসাল জেনারেল (বর্তমানে মরোক্কর রাষ্ট্রদূত) মনিরুল ইসলাম, ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহিদুল ইসলাম ও জাতিসঙ্ঘে কর্মরত বাংলাদেশী কূটনীতিক হামিদুর রশিদ গৃহকর্মীর দেয়া মামলার কারণে জটিলতায় পড়েছেন। মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরপরই সরকার তাকে নিউ ইয়র্ক থেকে সরিয়ে নেয়। শাহিদুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তিনি বেল বন্ডে জামিন পান। আর হামিদুর রশিদ আটকের পর জামিন পেয়েছেন। গত ১২ জুন সকালে নিউ ইয়র্ক পুলিশ শাহিদুল ইসলামকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতারের পর কুইন্স কোর্টে হাজির করে। বিচারক ড্যানিয়েল লুইস ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে শাহিদুলের জামিন এবং তার পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেন। বেল বন্ড দিয়েই বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল জামিন পান। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও প্রায় চার বছরের ওভারটাইমসহ বেতন ও যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে। আর মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আপাতত তিনি আইনি জটিলতা এড়াতে পারলেও ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে মামলাটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। হামিদুর রশিদ লিয়েনে জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের প্রধান হিসেবে কমর্রত আছেন। ২০ জুন ওয়াশিংটন সফরকালে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবাপাচার, গৃহকর্মী নির্যাতন ও প্রাপ্য বেতন না দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আটক ও পরে জামিনে মুক্তির ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।


তিনি আশা করেন, দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধার সম্পর্কের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্বেগ নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি (পররাষ্ট্র সচিব) টমাস শ্যাননের সাথে বৈঠকে শহীদুল হক এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেলকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েনা কনভেনশন পরিষ্কারভাবে লঙ্ঘন করেছে। শাহিদুল ইসলামের গৃহকর্মী ১৩ মাস আগে তার বাসা থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে অবহিত করে। কিন্তু শাহিদুল ইসলামের গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে কিছুই অবহিত করা হয়নি। 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে আটক করার ঘটনাটি ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার রিলেশনস বিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের পরিষ্কার লঙ্ঘন। ঢাকায় মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) এ ব্যাপারে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।



//এইচএন

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সৌজন্যে: দৈনিক নয়া দিগন্ত

সংশ্লিষ্ট খবর