মঙ্গলবার ২৬শে মে ২০২০ |

ঐতিহ্য ও আধুনিকতায় কাতারের জাতীয় মসজিদ

তামীম রায়হান |  বৃহঃস্পতিবার ১৬ই মে ২০১৯ রাত ০১:৫০:৫২
ঐতিহ্য


আরব ও মুসলিম দেশ হিসেবে কাতারে শহর ও গ্রামে দেখা মিলবে অসংখ্য মসজিদ। উঁচু মিনার সম্বলিত এসব মসজিদ কাতারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

ফলে কেবলমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য নয়, বরং স্থানীয় ইতিহাস ও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে কাতারের মসজিদগুলো এখানকার নাগরিকদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া কাতারে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে মসজিদগুলোতেও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারের প্রায় সব মসজিদে সংস্কারকাজ চালানো হয়েছে। নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েক শ মসজিদ। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, প্রায় সব মসজিদ পুননির্মাণকালে ধরে রাখা হয়েছে পুরনো ঐতিহ্যের স্থাপত্যশৈলী।

কাতারে মসজিদের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে চাইলে জাতীয় মসজিদ জামে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের বিকল্প নেই। সুবিশাল জায়গাজুড়ে নির্মিত আরব স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ এখন কাতারের অন্যতম একটি দর্শনীয় জায়গায় রূপ নিয়েছে। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন নানা দেশের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ আসেন এই মসজিদটি দেখার জন্য।

জামে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কাতারের সবচেয়ে বড় মসজিদ। রাজধানী দোহার মধ্যভাগ থেকে উত্তর দিকে আলজুবাইলাত এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে।

দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ শেষে ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা এটি উদ্বোধন করেন।

এই মসজিদের পুরো জায়গার আয়তন এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার। এর মূল ভবনের ভেতর নামাজ আদায় করতে পারেন ১১-১২ হাজার নামাজি। 

এছাড়া বাইরে খোলা আঙিনা ও বারান্দায় নামাজ পড়তে পারবেন আরও ত্রিশ হাজার নামাজি।

এই মসজিদে রয়েছে বড় আকারের ২৮টি গম্বুজ এবং একটি সুউচ্চ মিনার। চারপাশে রয়েছে আরও ৬৫টি গম্বুজ। ইমামের দাঁড়ানোর জায়গার উপর রয়েছে আরও দুটি বড় গম্বুজ। 

রয়েছে কুরআন পড়া ও মুখস্ত করার জন্য কেন্দ্র, একটি লাইব্রেরি এবং নারীদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা। 

এখানে নামাজ পড়তে পারেন এক হাজার দু শ নামাজি নারী। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও রয়েছে আলাদ কুরআন অধ্যয়ন কেন্দ্র, অজুখানা ও টয়লেট।

মসজিদের বাইরে রয়েছে সুবিশাল জায়গাজুড়ে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। প্রায় ৮০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে রাখা যাবে আড়াই হাজারের বেশি গাড়ি। 

এই মসজিদের অপরূপ সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে চারপাশজুড়ে সবুজায়ন। প্রায় ৪৮হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে লাগানো হয়েছে নানা জাতের দৃষ্টিনন্দন গাছপালা। এখানে ছোট, মাঝারি ও বড়- নানা আকৃতির বিভিন্ন রঙের ফুল ও পাতার গাছ রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি।

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়ে তৈরি কাতারের জাতীয় মসজিদ হিসেবে খ্যাত জামে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের অভ্যন্তরীণ চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য অল্প কথায় তুলে ধরা কঠিন। এর গাম্ভীর্যঘেরা পরিবেশ এখানে আগত ইবাদতকারীদের নিয়ে যায় এক অন্যরকম ঐশী আবহে।

অত্যাধুনিক শব্দযন্ত্র, নিরাপত্তা ক্যামেরা, নামাজ ও খুতবা এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বসানো উচ্চ মানের ক্যামেরাসহ নানা প্রযুক্তিযন্ত্র এই মসজিদকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সমুন্নত করে রেখেছে। 

দিনের আলো নিভে গেলে এই মসজিদের সৌন্দর্য যেন ভিন্ন রূপ ফিরে পায় সন্ধ্যার পর থেকে। চারপাশ ঘিরে বসানো আধুনিক আলোকসজ্জায় এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।


কাতারের বিভিন্ন বিষয়ে তামীম রায়হানের আরও কিছু লেখা

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

তামীম রায়হান

কাতার প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর