বৃহঃস্পতিবার ৪ঠা জুন ২০২০ |

আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকুন

 রবিবার ১৫ই মার্চ ২০২০ দুপুর ১২:২৫:৪৩
আতঙ্ক

কাতার থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে নিজের বাড়িতে সম্প্রতি ফিরেছিলেন এক যুবক। আইডি হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভর্তি হওয়া ওই যুবকের দেহে করোনা ভাইরাসের প্রমাণ না-পাওয়ায় তাঁকে বাড়ি ফিরে পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ (হোম আইসোলেশন) দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু যুবক জানান, তাঁর বাড়ি ফেরায় গ্রামবাসীদের আপত্তি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’ অর্থাৎ শরীরে ভাইরাস ঢোকা থেকে উপসর্গ প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত সময় হাসপাতালে থাকার অনুমতি চান যুবক। ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’ শেষ হচ্ছে ২০ মার্চ। পরিস্থিতি বিচার করে তাঁর আর্জি শুনেছেন আইডি কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের নোডাল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘মানুষ অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। সতর্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করা জরুরি। কিন্তু ওই যুবকের সঙ্গে যা ঘটেছে তা আতঙ্ক ছাড়া কিছু নয়।’’ প্রতি দিন আইডির বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে সেই আতঙ্কের প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এক চিকিৎসকের কথায়, ‘‘করোনার নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে। করোনা প্রভাবিত দেশে গিয়েছিলেন বা করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু সাধারণ হাঁচি-কাশি হলেও লোক ভয় পেয়ে হাসপাতালে চলে আসছেন।’’ বস্তুত, জেলা, ব্লক হাসপাতাল থেকে যাঁদের ‘রেফার’ করা হচ্ছে, তাঁদের অনেককে কলকাতায় পাঠানোর প্রয়োজন ছিল না বলেই  মত আইডি হাসপাতালের চিকিৎসকদের।

ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের ডিরেক্টর অপূর্ব ঘোষ বলেন, ‘‘সারা দেশে যে ভাবে সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। করোনা যেহেতু নতুন ভাইরাস এবং কোনও ওষুধ নেই তাই হয়তো আতঙ্ক বাড়ছে। এত ভয়ের কিছু হলে তো চিকিৎসকদের চেম্বার সবার আগে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তা যখন হয়নি, তখন সাধারণ মানুষের উচিত আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে সতর্ক হওয়া। ডেঙ্গি, সার্স, মার্স, সোয়াইন ফ্লু এর থেকে অনেক বেশি বিপজ্জনক।’’

এসএসকেএমের মেডিসিন বিভাগের প্রধান সৌমিত্র ঘোষেরও বক্তব্য, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ সব স্তরে স্বাগত। কিন্তু আতঙ্ক-মুক্ত হতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘এটি একটি ড্রপলেট ইনফেকশন। বার বার হাত ধোওয়ার পাশাপাশি অন্য ব্যবস্থাও নিতে হবে। কিন্তু গণভীতির শিকার হবেন না। এখনও পর্যন্ত করোনায় যে সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছে, তার থেকে যক্ষ্মায় অনেক বেশি মানুষ মারা যান। পশ্চিমবঙ্গে তো এখনও পর্যন্ত একটি কেস পজিটিভ হয়নি। তা হলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ কী!’’ 

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সংশ্লিষ্ট খবর