শনিবার ৩০শে মে ২০২০ |

‘একটা সময় যেন আসে আইরিন আফরোজের মতো হবো’

ঢাকা প্রতিনিধি |  মঙ্গলবার ৩১শে মার্চ ২০২০ রাত ০৮:৪৯:২২
‘একটা

ছবিগুলো: নূর ও সুমন আহমেদ প্রমূখের তোলা। আইরিনের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

পত্রিকার লাইফস্টাইল পাতায় ফটোশুটের মাধ্যমে যার শিল্পযাত্রার শুরু, গত ৬ বছরে তার সেই যাত্রায় এসেছে নানা পালাবদল আর বাঁক। তারুণ্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসে ইতোমধ্যে বাংলা বিনোদন জগতের দেশে-বিদেশে পরিচিত অভিনয়শিল্পী আইরিন আফরোজ। গান-নাটক-ওয়েবসিরিজ-মিউজিক ভিডিও-- শিল্পের নানাস্তরে নিজের অভিনয়প্রতিভা দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন দর্শক। একইসঙ্গে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ভরপুর উপস্থিতি! কখন কী করছেন, আজ শুটিং তো সন্ধ্যায় কোনও বনে বা বন্ধুদের সঙ্গে রাতভর রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো আর নিজের শারীরিক সৌষ্ঠবের চোখভুলানো আবেদন তো ধরে রেখেছেনই। টিভিসিতে নিজের স্বাক্ষরে ছোটপর্দা ব্যস্ত রেখেছেন পুরোটা সময়। তিনি কাজ করেছেন বিকাশ, গোল্ড মার্ক বিস্কুট, প্রাণ ঝালমুড়ি, মেরিল ভেসলিন, মেন্টোস, মাই ক্যাশ, প্রাণ পিনাট বার, প্রাণ গুঁড়া মশলা, প্যারাশুট নারিকেল তেল, জুল আলট্রা, এয়ারেটেল থ্রি-জি অসংখ্য বিজ্ঞাপনে। ২০১৮ সালে রিলিজ হওয়া আইরিন অভিনীত জিসান খান শুভ’র বিষের ছুঁড়ি গানের মিউজিক ভিডিওর ভিউ তিনকোটি পেরিয়েছে।

কিন্তু এইসব কিছু খুব সাধারণ, সরলরেখার মতো আইরিনের হাতে ধরা দেয়নি। প্রত্যেকটা অর্জনের আড়ালে লুকিয়ে আছে পরিশ্রমের নানামাত্রিক গল্প। সারাদিন খেটেখুটে বাড়ির সামনে দিয়ে গেলে পাড়ার লোকেরা তাকে শত্রু মনে করতো। আইরিনের কণ্ঠেই শোনা যাক-- ‘আমরা যে এলাকায় থাকতাম, এটা একটু লোকাল এরিয়া। দেখা যেতো, শুটিং শেষ রাত করে বাসায় ফেরার সময়-- মানুষ বাজেভাবে তাকাতো, উল্টাপাল্টা কথা শুনতে হতো, মন্তব্য করতো, আব্বুর কাছে একেকরকম কথা বলতো। বাবাও এসব নিয়ে বাসায় চিল্লাচিল্লি করতেন। পেপারে ছবি আসলে আমি লুকিয়ে রাখতাম। যেন আব্বু না দেখে, টিভি দেখতে দেখতে যখন আমার বিজ্ঞাপন চলে আসতো, আমি চ্যানেল পাল্টে দিতাম।’

কিন্তু আইরিনের অবিচলতা তাকে এনে দিয়েছে ভরাদেশ খ্যাতি। পাড়া-মহল্লার ছেলেপেলেরা দিনে বেশ কয়েকবার ক্রাশও খায় এখন এবং সেই ছবি আপলোড হয় অনলাইনেও। বেশ উপভোগ করছেন তার নিজের সময়। কিন্তু করোনায় কেমন আছেন তরুণ এই অভিনয়েরযাত্রী। নগর থেকে গ্রাম সর্বত্র যখন কোয়ারেন্টাইনে, আইরিনও ব্যতিক্রম নন। তিনি ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে। নিজে পড়ছেন প্রিয় বিষয়ের বই। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণে বাসাবাড়ির সময়গুলোতে কীভাবে সময় কাটছে বাংলা নাটকের এই তারকার। আইরিন সোজাসাপ্টা উত্তরে নিজের কথাগুলো জানালেন। গালফবাংলার সঙ্গে আইরিন আফরোজের বিশেষ সাক্ষাৎকার। ছবিগুলো: নূর ও সুমন আহমেদ প্রমূখের তোলা। আইরিনের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত।

গালফবাংলা: সারা বিশ্বজুড়ে করোনার মহামারী, আপনি কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন?

আইরিন: আমি শুটিং অফ করে দিয়েছি ২০ মার্চ থেকে। এখন বাসায়ই অবস্থান করছি। আমার পরিবারের সদস্যরাও বাসায় আছেন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আছে, তাদেরকেও আমি বলছি, বাসা থেকে বের হয়ো না। যদি খুব বেশি প্রয়োজন হয়, তাহলে গ্লাভস এন্ড মাস্ক ইউজ করতে। বাসায় ফিরে গোসল করে ফেলতে। আমিও সেইম করেছি। যদিও এরইমধ্যে বাসার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। বাসায় আছি, একটু পর-পর হাত ধুচ্ছি, পরিবারের সদস্যরাও করছেন। সো, এভাবেই। আর আমার বাসায় ভালোও লাগছে।

গালফবাংলা: গত বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন মিলিয়ে আপনি নিয়মিত মুখ, দর্শকদের কাছে পরিচিত নাম- শুরুটা তো মডেলিং ছিলো। পুরো যাত্রাটা কতটা পরিশ্রমের ছিলো?গত বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন মিলিয়ে আপনি নিয়মিত মুখ, দর্শকদের কাছে পরিচিত নাম- শুরুটা তো মডেলিং ছিলো। পুরো যাত্রাটা কতটা পরিশ্রমের ছিলো?

আইরিন: আমি কাজ করছি ২০১৪ সাল থেকে। শুরুতে আমি বিজ্ঞাপনে কাজ করতাম, মডেলিং করতাম। এখন আমি ধারাবাহিক, ওয়েবসিরিজ ও সিঙ্গেল নাটকে কাজ করছি। নিজের পরিবার থেকে কখনোই সাপোর্ট করে নাই মিডিয়ায় কাজ করাটা। কিন্তু আমার মা আমার পাশে ছিলেন। আমরা যে এলাকায় থাকতাম, এটা একটু লোকাল এরিয়া। দেখা যেতো, শুটিং শেষ রাত করে বাসায় ফেরার সময়-- মানুষ বাজেভাবে তাকাতো, উল্টাপাল্টা কথা শুনতে হতো, মন্তব্য করতো, আব্বুর কাছে একেকরকম কথা বলতো। বাবাও এসব নিয়ে বাসায় চিল্লাচিল্লি করতেন। পেপারে ছবি আসলে আমি লুকিয়ে রাখতাম। যেন আব্বু না দেখে, টিভি দেখতে দেখতে যখন আমার বিজ্ঞাপন চলে আসতো, আমি চ্যানেল পাল্টে দিতাম। কিন্তু ধীরে-ধীরে আব্বু যখন দেখলেন আমি ভালো করছি, আব্বু এখন পজেটিভ। এখন আমি ভালো আছি, কোনও প্রবলেম নেই, হচ্ছে না।

গালফবাংলা: ধারাবাহিক, এক ঘন্টার নাটকের মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

আইরিন: দুটোই আমার পছন্দের, দুটোই আমার কাজে জায়গা। দুটোই এক বিষয়। ধারাবাহিকে নিয়মিত আমাদের দর্শকরা দেখছেন। আমার মুখ দেখছেন, কাজ দেখছেন। আর একক নাটকে নিয়মিত দেখছে না। এটা মাসে হয়তো দুটো। ফলে, আমার কাছে দুটোর কোনওটিই আগে-পরে নয়।

গালফবাংলা: শুটিংয়ে মজার কোনও ঘটনা পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করবেন কী?

আইরিন: কিছুদিন আগে শ্রীমঙ্গলে সর্বশেষ শুটিংয়ে ছিলাম। বায়োস্কোপের জন্য হরর ধরনের কাজ করলাম। ভূত আমাকে মেরে ফেলে এরকম কিছুর গল্প। ওখানে একটা জায়গা আছে, যেখানে আমাকে মারা হয়, এরপর কফিনের ভেতর কাফনের কাপড়পরে.... (বাকিটা রিলিজের পর)। ওই শুটিংয়ে কবরের ভেতরে আমার মুখে চা পাতা ছড়ানো হচ্ছে, খুবই মেমর‌্যাবল এবং মজার তো অবশ্যই। প্রথম আমি অনুভব করলাম, মৃত্যুর পর আমাকে কফিনে ঢুকানো হবে। এরপর তো মুখবন্ধ করে দেওয়া হলো। খুব স্বল্প সময়, কিযে ফিল হচ্ছিলো আমি বুঝাতে পারবো না।

গালফবাংলা: নিজের কাজের পরিচালকদের মধ্যে কাদেরকে নিজের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রেখেছেন?

আইরিন: কাজের পরিচালকদের মধ্যে আসলে আলাদা করার কিছু নেই, করবোও না। পরিচালকদের মধ্যে সবাই আমার পছন্দের, কেউ আগে-পরে নেই। কিন্তু এমন কয়েকজন আছেন, যারা আমার কাজের শুরুর দিকে তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। তাদের সঙ্গে অবশ্যই সখ্যতা, বুঝাপড়া একটা জায়গাতেই আছে, সে কারণে অবশ্যই তাদেরকে আমি প্রয়োরিটি দেবো।

গালফবাংলা: সর্বশেষ পড়া বই কোনটি? ভালো লেগেছে কী?

আইরিন: বাসায় কিছু গোয়েন্দাসিরিজ আছে, সেখান থেকে শুরু করেছি।

গালফবাংলা: ঢাকার টেলিভিশনের নাটক নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। স্ক্রিপ্টিং, শট, লোকেশন, মেকাপ, গল্প নিয়ে। এমনকী অভিনয়ের ব্যাপারেও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে অনেক আলোচনা আসে। আপনি তো সক্রিয় শিল্পী, কিভাবে দেখছেন বিষয়গুলো?

আইরিন: সমালোচনা তো সব কাজেরই থাকবে। আর এটা না হলে কাজের ভালোমন্দ আমরা বুঝবো কী করে। মানুষ যদি কথা বলে তাহলে বুঝতে পারবো কী কী ভুল আছে, কী-কী ঠিক করতে হবে। কোন জিনিসটা চেঞ্জ করতে হবে। কোন জিনিসটা ভালো হয়েছে, যেটা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আমার কাছে মনে কোনও কাজের সমালোচনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা উচিৎ। তাহলে আমরা নিজেদের কাজের উন্নতি করতে পারবো।

গালফবাংলা: করোনা নিয়ে আপনার দর্শক ও পাঠকদের সচেতনতামূলক কিছু বলবেন?

আইরিন: নিশ্চয়ই আমরা সবাই জানি, এই সময়ে আমাদের কী করতে হবে। আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বলবো, বাসায় থাকতে। কষ্ট হলেও থাকতে। বাসার থাকার টাইমটা ইনজয় করতে হবে। পরিবারকে সময় দিলাম। বই পড়লাম, ছবি দেখলাম, পরিবারের কাজ করলাম। তাহলেই কিন্তু সময়টা সুন্দর যাবে। নিজেদের টেককেয়ার করলাম। আমার দর্শকদেরওকেও তাই বলবো, নিজে নিরাপদ থাকুন, পরিবারকেও নিরাপদ রাখুন। আপনি নিরাপদ থাকলেই দেশ নিরাপদ।

গালফবাংলা: একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তারুণ্যকে কতটা উপভোগ করছেন, যদিও খুব সম্ভবত পৃথিবীতে নিজেদের কালে এই প্রথম ভয়াবহ কোনও মহামারী আমরা অতিক্রম করছি। তবুও, নিজের সৌন্দর্য, আবেদন, কাজ, পড়া, পরিচিতসহ এই যে, আইরিন আফরোজ, একজন সুপ্রতিষ্ঠিত তারকা, সামনে কীভাবে দেখতে চান নিজেকে?

আইরিন: আমি শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রমের ভেতরে দিয়ে কাজের প্রতি প্যাশন, যে শ্রদ্ধা, সেটার জন্যই আছি। যতদিন আছি, ছোটপর্দায়, বড়পর্দায়ও তো অবশ্যই, যদি মনমতো সুযোগ পাই, ভালো গল্প, ভালো স্ক্রিপ্ট হলে অবশ্যই করবো। আমরা তিশা আপাকে, জয়া আপাকে দেখে যেমন বলতে পারে, তাদের মতো হওয়া উচিৎ। একটা সময় যেন আসে আইরিন আফরোজের মতো হবো, এমন অবস্থানে নিজেকে নিতে পারি। সবাইকে ভালো-ভালো কাজ উপহার দিতে চাই।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সংশ্লিষ্ট খবর