শনিবার ৩০শে মে ২০২০ |

হতাশার মধ্যে আশার চেয়েও বেশি রেমিটেন্স

 সোমবার ১৮ই মে ২০২০ রাত ১২:২৬:৩৮
হতাশার
করোনাভাইরাস মহামারী গোটা বিশ্বকে সঙ্কটে ফেলে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের রেমিটেন্সেও পড়েছে তার প্রভাব।

গত মার্চ থেকে রেমিটেন্স কমে যাওয়া দেখে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু ঈদের মাস মে’তে প্রথম ১৪ দিনেই ৮০ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা পুরো এপ্রিল মাসের প্রায়দুই-তৃতীয়াংশ। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, “মহামারীর কারণেবিশ্বের প্রায় সব দেশেই সঙ্কট চলছে। আমরা ভেবেছিলাম রেমিটেন্সের পরিমাণ একেবারে তলানিতে নেমে আসবে। 

“তবে তা হয়নি।প্রতিবারের মত এবারও ঈদে পরিবার-পরিজনের জন্য বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।”

অর্থনীতির গবেষকআহসান এইচ মনসুর বলেন, “সত্যি কথা বলতে কি, আমরা ভেবেছিলাম রপ্তানি আয়ের মতো রেমিটেন্সও একেবারে তলনিতে নেমে আসবে। কিন্তু তা হয়নি।”

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। জিডিপিতে এই রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

প্রতি বছরই ঈদের আগে রেমিটেন্সে গতি আসে। গত বছরের রোজার ঈদের আগে মে মাসে ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড রেমিটেন্স এসেছিল। প্রথম ১৪ দিনে এসেছিল ৮৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

এবার করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিককে দেশে ফিরতে হওয়ায় এবং যারা রয়েছেন, তাদেরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে তেমন রেমিটেন্স আশা করা হচ্ছিল না। 

মার্চ থেকেবৈশ্বিক পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যাওয়া ওই নিরাশার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। 

গত মার্চে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল, যা গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশকম।

পরের মাস এপ্রিলে রেমিটেন্স আরও কমে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে আসে, তাও গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ২৪ দশমিক৬১ শতাংশ কম।

কিন্তু মে মাসে চিত্র পাল্টাতে থাকে। প্রথম ১১ দিনে ৫১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে, ১৩ মে পর্যন্তআসে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ১৪ মে তা ৮০ কোটি ডলারে গেল। ১৪ মে বৃহস্পতিবার একদিনেই আসে১১ কোটি ২০ লাখ ডলার। 

গত বছরের স্বাভাবিক মে মাসের প্রথম ১৮ দিনে যে পরিমাণ রেমিটেন্স এসেছিল, এই বছরের সেই সময়ে তা কমেনি। 

গত ২০১৮-১৯অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে এক হাজার ৩৩০ কোটি ৩২ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। চলতি অর্থ বছরের ১৪ মে পর্যন্ত এসেছে ১ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

ঈদের পাশাপাশি রেমিটেন্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার শর্ত শিথিল করার প্রভাবও এতে পড়ছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ছাইদুর।

তিনি আরও বলেন,“ঈদের আগে যেহেতু এক সপ্তাহের বেশি সময় হাতে আছে, সেহেতু রেমিটেন্স আরও বাড়বে। সব মিলিয়েএপ্রিল মাসের চেয়ে মে মাসে বেশি রেমিটেন্স দেশে আসবে বলে আশা করছি।”

তবে আহসান মনসুর বলেন, “একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এখন উপার্জন বা কাজের টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন নাতারা (প্রবাসী)। জমানো টাকা যেটা ছিল সেখান থেকেই অথবা অন্য কারও কাছ থেকে ধার করে পরিবারের-পরিজনের বিপদের দিনে কিছু পাঠাচ্ছেন। সেটা ফুরিয়ে গেলে আর পাঠাতে পারবেন না।”

মহামারীর কারণে দেশে ফিরতে হয়েছে অনেককে 

মহামারীর প্রভাবশুরুর আগে রেমিটেন্সে ২০ শতাংশের উপরেই ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবারও রেমিটেন্স ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়েই অর্থবছর শেষ হত বলে মনে করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর।

তিনি বলেন,বাংলাদেশের রেমিটেন্সের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। জ্বালানি তেলের দাম একেবারে কমে আসায় তেলনির্ভর অর্থনীতির ওই দেশগুলোতেও দেখা দিয়েছে বড় সঙ্কট। ফলে সব মিলিয়ে আগামীদিন গুলোতে রেমিটেন্সের জন্য খুব ভালো খবর আসবে তার মনে হয় না। তবে এরপরও রেমিটেন্সে১১/১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হবে বলে মনে করেন তিনি। 

গত ২০১৮-১৯অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের বছরেরচেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল আরও বেশি; ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।

রিজার্ভ ৩২.৮৪ বিলিয়ন ডলার

ঈদের আগে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় রপ্তানি আয় কমার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

রোববার দিনশেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৮৪ কোটি ৩৯ লাখ(৩২.৮৪ বিলিয়ন) ডলার।

তবে আমদানিব্যয় কমার কারণে রিজার্ভ কমেনি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

মে মাসের প্রথমসপ্তাহে রিজার্ভ ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু)মার্চ-এপ্রিল মাসের আমদানি বিল পরিশোধের পর তা কমে আসে।

আরও খবর

কাতারে ঈদের সরকারি ছুটি ১২ দিন

অ্যাপসে প্রবাসী আয় আসা বাড়ছে

সাড়ে চার মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা

আমদানি কমেছে ব্যাপক, প্রবাসী আয়ও নিম্নমুখী

রংপুরে ৬০০ এতিমের মুখে হাসি ফুটালো কাতার চ্যারিটি

কাতারে রবিবার করোনায় নতুন আক্রান্ত ১,৬৩২ জন

আজ থেকে কাতারে মাস্ক ছাড়া বের হলে জেল-জরিমানা

কাগজপত্র ছাড়া সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পাঠালেও বোনাস পাবেন প্রবাসীরা

একমাত্র যে দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চালু রেখেছে বাংলাদেশ

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

ঢাকা ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর