সোমবার ১লা জুন ২০২০ |

নেতানিয়াহুর আবেদন খারিজ, আদালতে হাজিরের নির্দেশ

 বৃহঃস্পতিবার ২১শে মে ২০২০ রাত ০৩:৪৪:৫৮
নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

দুর্নীতির মামলায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিচার আগামী ২৪ মে (রবিবার) জেরুজালেমে শুরু হচ্ছে। নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতিতে ওই বিচার শুরুর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। বুধবার আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিযোগ পড়ার সময় অভিযুক্তকে আদালতে হাজির থাকতে হবে আর এই মামলায় নেতানিয়াহুকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কোনও কারণ নেই। 

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দামী উপহার গ্রহণ ও ইতিবাচক মিডিয়া কাভারেজ পেতে অবৈধ বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা চলছে। ইসরায়েলের প্রথম ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত বছর তার বিরুদ্ধে তিনটি আলাদা মামলায় জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ গঠন করা হয়। গত মাসেই এই বিচার শুরুর কথা ছিলো। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ওই মামলার বিচার দেরিতে শুরুর নির্দেশনা দেন ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রী। আগামী ২৪ মে বিচার শুরুর কথা রয়েছে। কোনও অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েক দশক পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার।

আগামী  ২৪ মে নেতানিয়াহুর বিচার শুরুর কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত হবে বলে ধারণা করা  হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে সেদিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগগুলো তাকে  পড়ে শোনাবে আদালত। তবে নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতিতে ওই কার্যক্রম চালানোর  আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তারা যুক্তি দেখান যে, নিজের বিরুদ্ধে গঠন হওয়া  অভিযোগগুলো ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন নেতানিয়াহু। আর তার নিরাপত্তার জন্য যে  সংখ্যক দেহরক্ষী প্রয়োজন হয় তাতে আদালত কক্ষে করোনাভাইরাস ঠেকাতে আরোপ করা  বিধিনিষেধ লঙ্ঘন হতে পারে বলেও যুক্তি দেন আইনজীবীরা।

তবে আদালত সেই  আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে আদালত কক্ষে দেহরক্ষীর সংখ্যা কমিয়েও আনা  যেতে পারে এবং অভিযোগ পড়ার সময় নেতানিয়াহুকে অবশ্যই হাজির থাকতে হবে যাতে  করে বিচারকেরা তার কাছ থেকেই জানতে পারেন যে তিনি এগুলো পড়েছেন এবং বুঝতে  পেরেছেন। বিচারকদের আদেশে বলা হয়, ‘প্রতিটি অপরাধের বিচারেই এটি হয়ে থাকে  আর বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ার অংশ এটি। আবেদনকারীর জন্য এই নিয়মের ব্যত্যয়  ঘটানোর মতো কোনও কারণ আমরা খুঁজে পাইনি।’

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে  দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে  টানা চতুর্থ মেয়াদে শপথ নিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সর্বশেষ জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলে অনুপস্থিত থেকেছে স্থিতিশীল কোনও। এক বছরের মধ্যে তিন দফা সাধারণ নির্বাচন  অনুষ্ঠিত হলেও কোনও পক্ষই সরকার গঠন করতে পারেনি। গত মাসে মাসে নেতানিয়াহু ও গান্তজ যৌথ সরকার গঠনের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয় নেতানিয়াহু ১৮ মাস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আর তারপর প্রধানমন্ত্রী  হবেন বেনি গান্তজ।

ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী হওয়া ঠেকাতে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়ে। তবে গত ৭ মে সেসব আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। ওই সময় আদালতের আদেশে বলা হয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সরকার গঠন আটকে রাখার কোনও আইনগত কারণ নেই।

বিচার চলার সময়ে আইনগতভাবে পদত্যাগে বাধ্য না  হলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংবাদমাধ্যম, বিচার ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা চালিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর