বুধবার ৮ই জুলাই ২০২০ |

পাপুলকে নিয়ে দুই সপ্তাহেও কিছু জানালো না কুয়েত

 বুধবার ২৪শে জুন ২০২০ সকাল ০৬:৫১:০৭
পাপুলকে

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিষয়ে বাংলাদেশকে তথ্য দেয়নি কুয়েত সরকার। গত ৭ জুন এমপি পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁর বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, কুয়েত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিদেশে একজন এমপির গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক। কুয়েত সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য পেলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে লকডাউন চলছে। লকডাউনের সময়ে তারা কারো ফোন ধরে না, চিঠিরও জবাব দেয় না।

পাপুলের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে কুয়েতে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হওয়া উচিত যে পরীক্ষিত লোক ছাড়া জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা ঠিক নয়। এখানে দুদক তাদের মতো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম সেখানে পাঁচ বছর ধরে দায়িত্ব পালনের পর ওই দেশটির সরকার বা দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে এমপি পাপুলের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য বের করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট মহলগুলোয় প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ওই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছিলেন, অভিযোগের সত্যতা নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেছেন, কুয়েতে কিছুটা দুর্বলতা আছে। শিগগিরই সেখানে নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী এমপি পাপুলকে তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, মুদ্রাপাচার ও শ্রমিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিষয়ে ওই দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আলোচনা হয়েছে কুয়েতের পার্লামেন্টেও। পাপুলকে গ্রেপ্তারের পর মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত সরকার।

এমপি পাপুলের কুয়েতে প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনারের (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) সম্পদ রয়েছে। সেগুলো যাতে তিনি অন্যত্র স্থানান্তর করতে না পারেন সে জন্য তদন্তকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সম্পদ জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি কুয়েতের তিন কর্মকর্তাকে ২১ লাখ দিনার ঘুষ দিয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে কুয়েতি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘুষের লেনদেন বিষয়ে তদন্তকারীরা পুরোপুরি অবগত। অভিযুক্ত এমপি পাপুল কুয়েতে মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আগামী ৬ জুলাই পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হতে পারে। এর আগ পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কুয়েতের আইন অনুযায়ী পাপুলের পাঁচ থেকে ১৫ বছরের জেল এবং জরিমানা হতে পারে।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

কুয়েত,পাপুল

সূত্র: কালের কণ্ঠ

সংশ্লিষ্ট খবর