শনিবার ৮ই আগস্ট ২০২০ |

কাতারে আধুনিক ইসলামি জাদুঘর

কাতার |  রবিবার ১২ই জুলাই ২০২০ সকাল ০৮:৪৫:১২
কাতারে

মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট। কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত। মনোমুগ্ধকর বিশাল আকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর জাদুঘর। বিশাল ও সুরম্য এই জাদুঘরটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ইসলামি জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।

জাদুঘরটি বছরে পাঁচ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী পরিদর্শন করেন। দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোয় তৈরি এই জাদুঘরে রয়েছে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। পাঁচতলা জাদুঘরে সুবিশাল প্রদর্শন হল রয়েছে। নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা অজু ও নামাজের স্থানও রয়েছে।

জাদুঘরটির নকশা এঁকেছেন চীনা বংশোদ্ভূত এক মার্কিন স্থপতি। আই এম পাই নামের ওই স্থপতি ৯১ বছর বয়সে সুবিশাল এই জাদুঘর ভবনের নকশা করেন। এটি ৪৫ হাজার বর্গমিটার জায়গার ওপর অবস্থিত। চূড়ান্ত নকশা করার আগেই তিনি বিভিন্ন মুসলিম দেশে ভ্রমণ করেন। প্রায় ছয় মাসের ভ্রমণে তিনি বিভিন্ন জাদুঘর ও মুসলিম স্থাপত্য পরিদর্শন করেন। ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করেন।

সবশেষে দোহা উপসাগরের তীরের একটা স্থান জাদুঘরের জন্য নির্বাচন করেন। একটু দূরে ও সাগরের তীর বেছে নেওয়ার কারণ, ভবিষ্যতে যেন কোনো উঁচু স্থাপনার কারণে ভবনটি ঢেকে না পড়ে। ২০০০ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ছয় বছরের মাথায় শেষ হয়। তবে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় ২০০৮ সালে। পাঁচতলা উচ্চতার জাদুঘরটির অভ্যন্তরে জায়গা রয়েছে প্রায় চার লাখ স্কয়ার ফিট। ভেতরের অংশগুলো অভাবনীয় ও অদ্ভুতভাবে কাচে সাজানো। একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতে ব্যবহার হয় কাচের তৈরি সিঁড়ি। মাঝখানে রয়েছে ১৬৪ ফুট উঁচু গম্বুজ।

বিভিন্ন যুগ অনুযায়ী ইসলামি ইতিহাসের আলাদা গ্যালারি রয়েছে। ইসলামের প্রথম যুগের জন্য রয়েছে আলাদা শিল্প গ্যালারি। মধ্য এশিয়া ও ইরানের ১২-১৬তম শতাব্দীর স্থাপত্যশিল্পের জন্য দুটি আলাদা গ্যালারি। মিসর ও সিরিয়ার ১২-১৫তম শতাব্দীর স্থাপত্যশিল্পের জন্য দুটি আলাদা গ্যালারি। রয়েছে ইরানের ১৬-১৯ শতকের আধুনিক স্থাপত্যশিল্পের আলাদা গ্যালারিও।

আরব ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, শিলালিপি, তৈজসপত্র, গহনা, অস্ত্র, বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে এতে। ধাতব বস্তু, কারুশিল্প সামগ্রী, কার্পেট, পাথর, সিরামিক পণ্য, কোরআনের দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, মুদ্রা, জুয়েলারি, অস্ত্র, কয়েন, কাচের জিনিসসহ ইসলামি-শিল্পের নানা নিদর্শন। এ ছাড়া পাঠাগারে শিশুদের পৃথক পাঠ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।

জাদুঘর ভবনেই একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। যাতে আরবি ও ইংরেজি ভাষার দেড় লাখের বেশি বই রয়েছে এবং প্রায় ২০০ কপি প্রাচীন ও বিরল বই রয়েছে। জাদুঘরে কমপ্লেক্সে রেস্টুরেন্ট, গিফট শপ ও বহিরাঙ্গনে উন্মুক্ত পার্ক রয়েছে। রেস্টুরেন্টে আরবি, ফরাসি, ভূমধ্যসাগরীয় ও আরব ব-দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা রকম খাবারপানীয় পাওয়া যায়।

মোবাইলে সবার আগে খবর পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে গালফবাংলার সাথে থাকতে এখানে ক্লিক করে লাইক দিন

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

কাতার,দোহা,মিউজিয়াম,জাদুঘর

আবরার আব্দুল্লাহ, দেশ রুপান্তর দৈনিক

সংশ্লিষ্ট খবর