সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২০ |
বিশেষ কলাম

করোনাত্তর পৃথিবীতে নতুন দিনের শুরু

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন |  সোমবার ১৩ই জুলাই ২০২০ সন্ধ্যা ০৭:১২:২৩
করোনাত্তর

করোনা যুদ্ধোত্তর বিশ্বের দিনকাল শুরু হয়েছে। কাতারে অফিস আদালতে উপস্থিতির সংখা শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশী। আপাতত শুক্র-শনিবার বন্ধ রেখে শপিং সেন্টারগুলো খুলেছে। রেস্তাঁরার ভেতরে টেবিল, চেয়ার ফিরে না আসলেও বাইরে উপচে পড়া ভীড়।

এই নতুন পৃথিবীতে সবাই সুরক্ষা-বিধি মেনে নিজেদের ঢেকে রেখেছে মুখোশের অন্তরালে। কোনো কারণে সামান্য জ্বর কিংবা সাথে কোভিড আ্যাপ্স না থাকলে, মন্দ কপাল। কোত্থাও ঢোকা যাবে না।

বিশ্বের বহু দেশেই এখন সংক্রমনের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে। কাতারেও করোনা সংক্রমনের হার নিম্নমুখী। বেশ কিছুদিন ধরে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচশ’র আশেপাশে উঠানামা করছে। আর মৃত্যুর হার হচ্ছে ০.১৫ শতাংশ, যা উপসাগারীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম।

অনাদিকাল থেকে সংক্রামক ব্যাধি সঙ্গী হয়েছে আমাদের। বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত মহামারীতে মারা গেছে লাখো কোটি মানুষ। আজ থেকে ৫০০ বছর আগে গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে মধ্য আমেরিকার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এর পর  ১৯১৮ সালে ভয়ংকর স্প্যানিশ ফ্লুতে মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রানহানি হয়েছিল প্রায় পাঁচকোটি মানুষের। সেই তুলনায় করোনায় আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর হার অনেক কম।

বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, করোনা রোগে আক্রান্ত প্রায় ১% রোগীর মৃত্যু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাকী ৯৯% যারা বেঁচে থাকবে তারা সবাই  কি পরিপূর্ণ সুস্থ থাকবে?  এই বিষয়টিই গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।  কারণ অন্যান্য ভাইরাসের মত মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনো সম্পূর্ন নিশ্চিত নন।

জার্মান মিসল্স নামে পরিচিত হাম হচ্ছে একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আনুমানিক ০.২% মানুষের মৃত্যু হয়। কিন্তু হাম, আক্রান্ত রোগীদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা কিংবা মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। অনেককে হামের কারণে বধির হতেও দেখা যায়। অন্যদিকে পলিও নামের অন্য একটি ভাইরাস জনিত রোগের পার্শ^-প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেকেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর পলিওতে আক্রান্ত ৭০% মানুষের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়না। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যাচ্ছে, করোনা ভাইরাসও কোনো রকম উপসর্গ না দেখিয়ে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।

করোনার আক্রান্ত বহু রোগীদেও দীর্ঘসময় ধরে আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেশনে থাকতে হচ্ছে। লম্বা সময় আইসিইউতে থাকাটা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।   ভেন্টিলেশন করোনার রোগীদের জীবন রক্ষা করলেও, দীর্ঘায়িত ভেন্টিলেশন ব্যহার করার ফলে আলসার, বাকটেরিয়া সংক্রমন সহ অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি যেসব করোনা রোগী আইসিইউতে যাননি, তাদের অনেকের কিডনী সহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।  এছাড়া মানসিক রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক করোনা রোগী। তাই কেবল মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বিচার করা সঠিক হবেনা। মানুষের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এই ভাইরাসের দীর্র্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাবও গভীরবাবে বিবেচনা করতে হবে।

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, একবার করোনা সংক্রমনের পর শরীরে যে প্রতিরোধক শক্তি বা এন্টিবডি তৈরী হয় তার স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক মাস। তাই করোনায় পুনঃসংক্রমনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।   ইদানিং অস্ট্রেলিয়া, চীন ও আমেরিকায় কোভিড ভাইরাস যেভাবে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তা খুবই উদ্বেগজনক। এর ফলে করোনা ভ্যাক্সিন কতটা ফলপ্রসূ হবে সে নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষা-বিধির মেনে চলতে গিয়ে অবসাদগ্রস্থ হয়ে অনেকে সরকারী নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। তাই দীর্ঘসময় ধওে সুরক্ষা-বিধি মনে না চললে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন আবারো ফিরে আসতে পারে।

করোনা সংক্রমনের শুরুতে আমরা জানলাম কতটা ভয়ংকর হতে পারে করোনা নামের এই অতিক্ষুদ্র অনূজীব। এরপর সংক্রমনরোধের জন্য চলল গবেষণা, হল বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা-বিধি সহ দুরত্ব-বিধির আগমন।  এখন চলছে মানুষকে আবারো সচল করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলার প্রক্রিয়া।  আমরা এখনো জানিনা, কি হতে পারে এর পরিনাম কিংবা এজন্য কতটা মূল্য দিতে হবে আমাদের।

মোবাইলে সবার আগে খবর পেতে হলে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে গালফবাংলার সাথে থাকতে এখানে ক্লিক করে লাইক দিন

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন

কাতার প্রবাসী প্রকৌশলী, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী

সংশ্লিষ্ট খবর