কখন বুঝবেন চাকরি ছাড়ার সময় এসেছে
Loading...

কখন বুঝবেন চাকরি ছাড়ার সময় এসেছে
স্বস্তিতে থাকা মানেই সবসময় আপনার অবস্থান সঠিক নয়। পেশাজীবীদের জীবনে অনেক সময় আসে যখন তারা বুঝতে পারে যে বর্তমান কাজ তাদের জন্য আর চ্যালেঞ্জিং নয়, সময় এসেছে নতুন সুযোগ খোঁজার
সপ্তাহে আমরা প্রায় ৫০ ঘণ্টা কর্মক্ষেত্রে কাটাই। দীর্ঘদিন একই কর্মক্ষেত্র আমাদের আরাম ও নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। কিন্তু স্বস্তিতে থাকা মানেই সবসময় আপনার অবস্থান সঠিক নয়। পেশাজীবীদের জীবনে অনেক সময় আসে যখন তারা বুঝতে পারে যে বর্তমান কাজ তাদের জন্য আর চ্যালেঞ্জিং নয়, সময় এসেছে নতুন সুযোগ খোঁজার।
নতুন কিছু শিখছেন না:
নিজেকে প্রশ্ন করুন, শেষ কবে নতুন কোনো দক্ষতা শিখেছেন বা নতুন চ্যালেঞ্জ পেয়েছেন? যদি অনেক দিন ধরে কাজ আপনাকে নতুন কিছু না শেখায়, তাহলে বুঝবেন আপনি নিজের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই:
স্থবিরতা অনেক সময় চোখে পড়ে না। আপনি হয়তো বছরের পর বছর একই পদে, একই দায়িত্বে পড়ে আছেন। উন্নতির চেষ্টা সত্ত্বেও বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতির সম্ভাবনা না থাকে। তাহলে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে শুরু করে। দীর্ঘদিন একই অবস্থানে আটকে থাকা কর্মক্ষমতা নষ্ট করে।
কাজের পরিবেশ বিষাক্ত:
যে অফিসে বুলিং, মনোবলহীনতা বা মতামতের উপেক্ষা চলে, সেখানে থাকা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
নিজের কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই:
আপনার পরিশ্রম বা অবদানকে কেউ মূল্যায়ন করছে না। কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি স্বীকৃত না হলে আগ্রহ হারাতে শুরু করেন।
নিজের প্রকৃত সত্তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না:
আপনি কি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না? পেশাগত শৃঙ্খলা থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত ভাব প্রকাশ করা জরুরি। আপনার সত্তা ও ধারণাকে মূল্যায়ন করা প্রতিষ্ঠান খুঁজুন।
কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা বেড়েছে:
কাজ আগ্রহের নয়, সময় কাটানোর একটি মাধ্যম হয়ে গেছে। প্রতিদিন কাজ এড়িয়ে চলার প্রবণতা বলে দেয় বর্তমান অবস্থান আপনার জন্য আর উপযুক্ত নয়।
কাজ নিয়ে সবসময় আলাপচারিতা:
বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কাটানো আড্ডা বা আলাপচারিতায় যদি ঘুরে ফিরে অফিসের কথাই প্রাধান্য পায় তাহলে বুঝতে হবে আপনি কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে আছেন।
স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে:
চাকরির স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ, উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের সতর্কবার্তা।
চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন বারবার:
যদি কাজে উদ্যম না পান, অনেক সময় ধরে চাকরি ছাড়ার কথা মনে ঘুরপাক খায় তাহলে সেটি বড় সংকেত। হঠাৎ পদক্ষেপ নয়, পরিকল্পনা করে এগোতে হবে।
চাকরিটি আপনার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক:
প্রতিষ্ঠানের নীতি-নৈতিকতা আপনার বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত হলে সেটি অনেক বড় সমস্যা। আমিরা বেতনের জন্য চাকরি করলে মূলবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক ধরণের মানসিক চাপ। প্রতিষ্ঠান যদি এমন কিছুর পক্ষে দাঁড়ায়, যেটা আপনি বিশ্বাসই করেন না তাহলে আপনার জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ করার সময় এসেছে।
লক্ষণগুলো যদি আপনার জীবনের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে সময় এসেছে নিজের চাকরি ও ক্যারিয়ার পুনর্মূল্যায়ন করার। পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নিলে, নতুন সুযোগের দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। সেইসঙ্গে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকেও সম্মানজনকভাবে বিদায় নেয়া সম্ভব হবে।
ফোবর্স অবলম্বনে
Loading...






