মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগে দেশে থাকা স্বজনরা
Loading...

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগে দেশে থাকা স্বজনরা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অর্ধকোটিরও বেশি বাংলাদেশী কাজ করেন। কেউ নির্মাণশ্রমিক, কেউ কাজ করেন সেবা খাতে, কেউবা প্রকৌশলী বা ব্যবসায়ী।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিভিন্ন দেশে তেহরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় অনেকে কর্মস্থল থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কোথাও কোথাও কঠোর নিরাপত্তা, আবার কোথাও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সতর্কতা সাইরেন—সব মিলিয়ে যেন এক অনিশ্চয়তার আবহ।
কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন
Loading...
দুবাই, রিয়াদ, দোহা, বাহরাইন কিংবা কুয়েতে থাকা বাংলাদেশীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে তাদের কাজ ও বাসস্থানের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে প্রবাসীদের দেশে থাকা স্বজনদের চোখ এখন টেলিভিশন ও মোবাইল স্ক্রিনে। প্রতিটি ব্রেকিং নিউজ মানেই নতুন দুশ্চিন্তা। অনেকেই রাত জেগে ফোনে যোগাযোগ রাখছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে। কাতার প্রবাসী কামাল হোসেনের স্ত্রী রুকাইয়া আক্তার বলেন, ‘সারাদিন খবর দেখছি। ও (স্বামী) বলছে আপাতত নিরাপদ আছে, কিন্তু মন তো মানে না।’
Loading...
সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের আকাশসীমা সীমিত বা বিমানবন্দর আংশিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশী যাত্রী আটকা পড়েছেন।
বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে গতকাল হামলা চালায় ইরান। এরপর থেকেই এসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশই আক্রান্ত দেশগুলোয় কর্মরত রয়েছেন।
Loading...
ফেব্রুয়ারির শুরুতে কর্মী ভিসায় জর্ডানের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে যান মাদারীপুরের শিমু। জানতে চাইলে খুদে বার্তায় তিনি লেখেন, ‘হামলার ঘটনার পর সাইরেন বাজানো হয়েছে। আমাদের সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছে। আমি নিরাপদে আছি, তবে দেশে পরিবার আমাকে নিয়ে হয়তো অনেক বেশি দুশ্চিন্তায় আছে। কারণ আমি মাত্রই কদিন হলো এখানে এসেছি।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘ হলে দেশগুলো কর্মীদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারে। তাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। তবে তার আগে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোকে তৎপর হতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে অবস্থান নিতে পারে। এছাড়া কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত সহায়তা পেতে পারে সে ব্যবস্থাও নেয়া এখন জরুরি।
কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন
Loading...
অভিবাসন খাত নিয়ে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা তাসনিম সিদ্দিকী এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারকে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। দূতাবাসগুলোয় তৎপর হয়ে কাজ করতে হবে।
প্রবাসীরা কোথায় থাকবে, কীভাবে থাকবে এসব বিষয়ে সহায়তা করতে হবে। এছাড়া যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘ হলে সাধারণত দেশগুলো অভিবাসী কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় বেতন-ভাতা ও ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। এক্ষেত্রে সরকারকে এখনই দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।’
Loading...
সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, যাতে উদ্ভূত উদ্বেগ দ্রুত নিরসন করা যায়।
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থাপনা, কূটনীতিক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের উদ্দেশে দেশগুলোয় থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস পৃথক সতর্কবার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি চালু করেছে হটলাইন নম্বরও। কাতারের দোহারে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দেশটিতে অবস্থানরত সব প্রবাসী নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবাসীদের সবসময় সঙ্গে নগদ টাকা, কাতার আইডি, হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার এবং শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অতিপ্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও সবাইকে সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রায় কাছাকাছি সতর্কবার্তা জারি করেছে অন্যান্য দেশে থাকা দূতাবাসগুলো।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম অংশ নেন। বৈঠককালে তারা তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কর্মী গমনে একসময় দ্বিতীয় শীর্ষ শ্রমবাজার ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। বর্তমানে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য ভিসা ইস্যু সীমিত থাকলেও গত পাঁচ বছরে ২ লাখ ৯০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মী দেশটিতে গেছেন। আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
Loading...
আবাসিক এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুও হয়েছে। যদিও এসব এলাকায় বসবাস করা বাংলাদেশী কর্মীদের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আবুধাবির সাদিয়াত দ্বীপ, খলিফা সিটি, বানি ইয়াস, মোহাম্মদ বিন জায়েদ সিটি এবং আল ফালাহ এলাকায় বাধাপ্রাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ায় প্রবাসীদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আবুধাবিতে অবস্থানরত বাংলাদেশী ট্যাক্সিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হামলার ঘটনা টের পাইনি। তবে ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যে জানতে পারি। এরপর দ্রুত কাজ শেষে রুমে চলে আসি। ফেসবুকে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আত্মীয়-স্বজন অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন, ঠিক আছি কিনা।’ তিনি বলেন, ‘শিগগিরই আমার দেশে ফেরার কথা ছিল কিন্তু এখন জটিলতা আরো বাড়ল। নিজের জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কায় আছি।’
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
সৌদি আরব, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসে জীবন-মৃত্যুর শঙ্কায় দিন কাটাবেন, নাকি দেশে ফিরবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন তারা। দেশে ফিরলেও খালি হাতে ফিরতে হবে। আবার এমন হতে পারে হয়তো কোম্পানি থেকেই দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারে, সে শঙ্কাও রয়েছে।
বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের মধ্যেও বাড়ছে উৎকণ্ঠা। বরগুনার বাসিন্দা রাসেল আহমদের বাবা থাকেন আরব আমিরাতে। দেশটিতে হামলার পর রাসেল বলেন, ‘ফেসবুকে খবরটা দেখে খুব ভয় পেয়েছি। আমিরাতে যেখানে হামলা হয়েছে বাবা সে শহরেই থাকেন।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। কখন কী হচ্ছে সেটা দেখতে মা একটু পরপর টেলিভিশন দেখছেন, আমি অনলাইনে নিউজ দেখছি ঘটনা কোন দিকে যাচ্ছে।’ চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনেক পরিবারও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, যার সবক’টিই কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, কুয়েতে বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশী কর্মী রয়েছেন। যারা সবাই আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
এদিকে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। গতকাল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানায়, আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশী কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু ও বর্তমানে আটকে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাসও দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে
Loading...
আরো পড়ুন
- ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যের সব গন্তব্যে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত
- মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত সরকার
- মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগে দেশে থাকা স্বজনরা
- বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
- কাতার লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আল উদেইদ ঘাঁটিতে আঘাত, হতাহত নেই
Loading...






