হরমুজ প্রণালি আবারো বন্ধ করে দিল ইরান, ট্যাংকারে গুলি
Loading...

হরমুজ প্রণালি আবারো বন্ধ করে দিল ইরান, ট্যাংকারে গুলি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি।
কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন
Loading...
মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে ইরান পুনরায় প্রণালিতে কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই সেখানে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার লক্ষ্য করে গানবোট থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।
এছাড়া সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক নানা তথ্য উঠে এলেও গতকাল তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার খবর নাকচ করে দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো শান্তি আলোচনায় বসার বিষয়ে ইরান রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরা।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
গতকাল এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় হরমুজ প্রণালি আবারো আগের মতো কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। এখন থেকে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে তথ্য প্রদান, ট্রানজিট সার্টিফিকেট গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত। আক্রান্ত ট্যাংকারের ক্যাপ্টেনের দাবি, কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা বা রেডিও চ্যালেঞ্জ ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত গানবোটগুলো এ হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। তবে জাহাজ ও এর ক্রু সদস্যরা নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
ইরানের এ পাল্টা পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে চাপে ফেলতে পারবে না এবং জলপথ উন্মুক্ত রাখতে ওয়াশিংটন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেবে।
তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর ঘোষিত নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সেন্ট্রাল মার্কিন কমান্ড (সেন্টকম)। এখন পর্যন্ত ২৩টি জাহাজকে মার্কিন নির্দেশ মেনে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা সক্রিয় থাকলেও ফলাফল অনিশ্চিত। ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, তবে কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তা দেখানো হবে না। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বড্ড বেশি কথা বলেন এবং পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেন।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাতিবজাদেহ আরো বলেন, ‘ইরান আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার প্রাপ্য অধিকার রক্ষায় আপসহীন। ইরান আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যতিক্রমী শর্ত মেনে নেবে না এবং নিজের অধিকারও বিসর্জন দেবে না।’
এদিকে ইরানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তেহরান সেগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরানকে প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন। ইরান তাদের অবস্থানে কঠোর থাকবে জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরানের আলোচনাকারী দল নমনীয়তা দেখাবে না এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে।
তবে বুধবারের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানে আবার হামলা শুরু হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আগামী বুধবারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হয়তো এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকবে। ফলে একদিকে অবরোধ থাকবে, অন্যদিকে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারো বোমা হামলা শুরু করতে হবে।’
ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে
Loading...
আরো পড়ুন
Loading...






