ছবি তুলতে ব্যস্ত পাইলট, দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ক্ষতি ৬ লাখ ডলার

Loading...

ছবি তুলতে ব্যস্ত পাইলট, দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ক্ষতি ৬ লাখ ডলার

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২১ সালে মাঝআকাশে দুইটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ। তবে সেই সংঘর্ষে কোনো প্রাণহানি না হলেও বিমান দুটি মেরামতে দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৬ লাখ ডলার ব্যয় করতে হয়।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

পাঁচ বছর পর অবশেষে সেই সংঘর্ষের কারণ খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারা বলছেন, উড়ন্ত অবস্থায় পাইলটেরা নিজেদের ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন।

সিউলের বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইনস্পেকশনের তথ্য অনুযায়ী—ঘটনাটি ঘটে মধ্যাঞ্চলের শহর দেগুতে। সে সময় যুদ্ধবিমানগুলো একটি ফ্লাইট মিশনে ছিল। এই দুর্ঘটনায় পাইলটেরা কেউ আহত হননি। তবে বিমান দুটির ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর, এগুলো মেরামতে সামরিক বাহিনীর খরচ পড়ে ৮৮০ মিলিয়ন ওন বা ৫ লাখ ৯৬ হাজার ডলার।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক পাইলট পরে সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেন। তাঁকে ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট তাঁর ইউনিটের সঙ্গে শেষ ফ্লাইট স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন বলেই এই ঘটনা ঘটে। অডিট বোর্ড আরও জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটে ছবি তোলা তখন পাইলটদের মধ্যে ‘ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি অভ্যাস’ ছিল। ফ্লাইটের আগে ব্রিফিংয়েই ওই পাইলট তাঁর ছবি তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

তিনি উইংম্যান বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং মিশনের সময় লিড বিমানটিকে অনুসরণ করছিলেন। ঘাঁটিতে ফেরার পথে তিনি নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছবি তোলা শুরু করেন। এটি লক্ষ্য করার পর লিড বিমানের পাইলট নিজের বিমানে থাকা আরেক পাইলটকে উইংম্যান বিমানটির ভিডিও ধারণ করতে বলেন।

এরপর উইংম্যান পাইলট হঠাৎ করে তাঁর বিমানটি উপরের দিকে তুলে এবং ঘুরিয়ে দেন, যাতে সেটি ক্যামেরায় ভালোভাবে ধরা পড়ে। এই কৌশলগত চালের ফলে দুই বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।

সংঘর্ষ এড়াতে লিড বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুইটি এফ-১৫কে যুদ্ধবিমান একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়, এতে লিড বিমানের বাম ডানা এবং উইংম্যান বিমানের টেইল স্ট্যাবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনী উইংম্যান পাইলটকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে তিনি সামরিক বাহিনী ছেড়ে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে কাজ শুরু করেন। পরে বিমানবাহিনী পুরো মেরামত খরচ ৮৮০ মিলিয়ন ওন ওই পাইলটের কাছ থেকে আদায়ের উদ্যোগ নেয়। পাইলট এই জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি অডিট বোর্ডের তদন্তে আসে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

উইংম্যান পাইলট স্বীকার করেন, তাঁর হঠাৎ নেওয়া মুভই সংঘর্ষের কারণ হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, ভিডিও ধারণের বিষয়টি জানার পরও লিড বিমানের পাইলট তা ‘নীরবে মেনে নিয়েছিলেন।’

শেষ পর্যন্ত অডিট বোর্ড রায় দেয়, বিমানবাহিনী যে অর্থ জরিমানা হিসেবে চেয়েছিল, তার এক-দশমাংশই ওই পাইলটকে পরিশোধ করতে হবে। বোর্ডের মতে, পাইলটদের ব্যক্তিগতভাবে ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আরোপে ব্যর্থ হওয়ায় বিমানবাহিনীকেও আংশিক দায় নিতে হবে।

এ ছাড়া বোর্ড বিবেচনায় নেয়, ঘটনার আগে ওই পাইলটের ভালো কর্মরেকর্ড ছিল এবং সংঘর্ষের পর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে এসে তিনি আরও বড় ক্ষতি ঠেকাতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় জড়িত অন্য পাইলটদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—তা প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

Loading...

Loading