গ্রাহকের অসচেতনতায় পাসপোর্টে হচ্ছে যত ভুল
Loading...

গ্রাহকের অসচেতনতায় পাসপোর্টে হচ্ছে যত ভুল
এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) অনুযায়ী আবেদন করেও পাসপোর্টে আমার মায়ের নামের বানানে ভুল এসেছে। তখন সেটা খেয়ালও করিনি। কীভাবে ভুল এল, তা-ও জানি না। গত জুন মাসে মা পাসপোর্ট দেখে তাঁর নামের বানানে ভুল পান। তাই এক বছরের মধ্যেই আবার পাসপোর্ট সংশোধন করতে হলো।
কথাগুলো শিক্ষার্থী নুর-ই-নাহরিনের। ২১ আগস্ট ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে সংশোধিত পাসপোর্ট নিতে এসে আজকের পত্রিকাকে তিনি এসব কথা বলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই পাসপোর্ট করেছিলেন নাহরিন।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে ২০২০ সালে পাসপোর্ট করেন শেফালী বেগম। তাঁর পাসপোর্টে নিজের নামের ইংরেজি বানান ও জন্মতারিখ ভুল হয়। পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
তাই নামের বানান, জন্মতারিখ সংশোধনসহ পাসপোর্ট নবায়নের জন্য তিনি গত ৯ জুন আবেদন করেন। এতে আবেদন ফিসহ তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা।
১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় শেফালী বেগমের ছেলে তারিকুল আমিন নাবিল বলেন, ‘মায়ের নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন করতে আবেদন করা হয়েছে। তবে টাকা জমা দেওয়ার চালানের কাগজে আগের নাম চলে আসায় সার্ভারে নিচ্ছিল না।
কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন
Loading...
ফলে পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার কোনো সময় দিচ্ছিল না। এটা সংশোধন করতে তিন দিন গেছি। পরে চালানের কাগজে নাম সংশোধন করে দেওয়া হয়। এরপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়। প্রায় এক মাস পর পাসপোর্ট হাতে পাই।’
শুধু নাহরিন ও শেফালী বেগমই নন, এমন অনেকে প্রতিদিন পাসপোর্টের বিভিন্ন ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করেন। গ্রাহকদের মুহূর্তের অসচেতনতায় এখনো নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখসহ নানা ভুল হচ্ছে। এগুলো সংশোধন করতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। ভোগান্তিতেও পড়তে হয়।
আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, নামের বানান, ঠিকানা, জন্মতারিখসহ পাসপোর্টের ভুল সংশোধন করতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন আবেদন করেন। কেউ সাধারণ ক্যাটাগরিতে (শ্রেণি), কেউ জরুরি বা অতিজরুরি ক্যাটাগরিতে আবেদন করেন। এসব ক্যাটাগরিতে পাসপোর্ট পেতে যথাক্রমে ১৫, ৭ ও ২ দিন লাগে।
Loading...
পাসপোর্টে সংশোধন করতে আসা গ্রাহকেরা জানান, অনলাইনে আবেদন করার সময় অসচেতনতায় কখনো নিজেরা, কখনো কম্পিউটার কম্পোজের দোকানের কর্মী ভুল করে ফেলেন। কখনো কখনো পাসপোর্ট অফিস থেকেও ভুল হয়।
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে আবারও সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয়। এতে আবেদন ফিসহ সব মিলিয়ে ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কেউ কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে আরও বেশি টাকা খরচ করেন।
জন্মনিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট করেন মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তি। পাসপোর্টে তাঁর বাবার নাম ভুলে আবুল হোসেন আহমেদ আসে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র করা হলে সেখানে তাঁর বাবার প্রকৃত নাম লেখা হয় আবুল হাসান।
Loading...
তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিল রেখে বাবার নাম সংশোধন ও পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করেন মেহেদী হাসান।
জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবা ও মায়ের নাম ভুল ছিল মো. শাহীনের। সেই অনুযায়ী পাসপোর্টও করেন তিনি। তবে এনআইডি কার্ডে নামের সংশোধন করার পর তিনি পাসপোর্টেও মা-বাবার নামের বানান ঠিক করতে আবেদন করেন।
সাতটি বিভাগীয় পাসপোর্ট, ভিসা অফিসসহ দেশে মোট পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস আছে ৭০টির বেশি। এসব অফিসে প্রতিদিন সংশোধনীর জন্য কয়েক হাজার আবেদন পড়ে।
Loading...
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সারা দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পাসপোর্ট থাকে নতুন আবেদনকারীর এবং এক-তৃতীয়াংশ মেয়াদ বৃদ্ধিসহ নাম, বয়স ও বিভিন্ন তথ্য সংশোধনীর আবেদন।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার বলেন, পাসপোর্টে সংশোধনী এখন আগের চেয়ে কমে এসেছে। এখন অধিকাংশ মানুষ জেনে গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের পর পাসপোর্ট সংশোধন করতে হয়।
আরও পড়ুন
Loading...
