মঙ্গলবার ২৬শে মে ২০২০ |

সাঈদীর পক্ষে কয়েকজন আলেমের বিবৃতি, অরাজকতার আশঙ্কা আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের

ঢাকা প্রতিনিধি |  শনিবার ২৮শে মার্চ ২০২০ বিকাল ০৫:৫২:০০
সাঈদীর

আলেম মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম, লোগো

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীনেতা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলেমদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশের পরিচিত কয়েকজন কওমি আলেমের নাম দিয়ে একটি বিবৃতিতে সাঈদীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। আজ (২৮ মার্চ) শনিবার দুপুরে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম। এ বিষয়টিকে নিয়ে দেশে নতুন করে অরাজকতা সৃষ্টির আশঙ্কা করেছে ফোরামটি। সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন সোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সন্তান মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন।

মাওলানা  সদরুদ্দীন মাকনুনের অভিযোগ, দেশের কিছু আলেম মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতনেতাদের নিয়ে জলঘোলা করছে।

তার বিবৃতিতে বলা হয়, 'আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম' ইতিমধ্যে দেশের প্রায় একশজন বরেণ্য আলেমের মতামত সংগ্রহ করেছে। সবাই ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এই মুহুর্তে কিছুতেই সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা স্থগিত করা যাবে না। তাকে মুক্তি দিলে দেশে আবার অরাজকতা সৃষ্টি হবে ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে। কাজেই তার সাজা বহাল রাখা হোক।’

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হোসাইন আহমাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সদরুদ্দীন মাকনুন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বিশ্বব্যাপী যখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস, সারা দেশ যখন ব্যস্ত এই মহাবিপদ মোকাবেলায়, ঠিক সেই মূহুর্তে বাংলাদেশে ইসলামদ্রোহী ও আদালতের পর্যবেক্ষণে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জামায়াতের দোসর কিছু নামধারী আলেম দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত অপরাধীদের মুক্তির দাবী তুলে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারা করছে।’

গালফবাংলাকে সদরুদ্দীন মাকনুন জানান, তারা দেশের বিশিষ্ট কওমি আলেমদের সঙ্গে কথা বলছেন। এ বিষয়টি নিয়ে হঠাৎ করেই জামায়াতপন্থী আলেমরা কয়েকজন কওমি মাদ্রাসার আলেমকে যুক্ত করেছে।

ঢাকার একাধিক আলেম জানান, শুক্রবার বিবৃতি প্রকাশের পর বিবৃতিতে নাম থাকা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, নেজামে ইসলামীর মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহারসহ কয়েকজন বিবৃতির প্রতিবাদ করেন। কয়েকজন আলেম দাবি করেছেন, এই বিবৃতিতে মুফতি ইজহারসহ কয়েকজন নিজেদের নাম দেখে অবাক হয়েছেন।

সাঈদীর পক্ষে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নানান জটিল ও কঠিন রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন। যেকোনও সময়ে তার এই মরণঘাতি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছি আমরা। দেশ জাতির এ কঠিন মুহূর্তে তার প্রতি সদয় হওয়া সময়ের দাবি। তাই আমরা রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানের কাছে আল্লামা সাঈদীর আশু মুক্তি দাবী করছি।’

মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন

মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন


উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির পর একটি বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার দলের নেতা মাওলানা সাঈদীর মুক্তি দাবি করেন।

সাঈদীর পক্ষের বিবৃতিতে নাম আছে খেলাফত আন্দোলনের একাংশের আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের। ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কওমি মাদ্রাসার এই পরিচালক শনিবার বিকালে গালফবাংলাকে বলেছেন, ‘মানবিক কারণে বলা হয়েছে। আমাকে ফোন করেছিলো, একজন। বলেছি, ঠিক আছে, মানবিক কারণেই তো বলা যায়।’

সাঈদীর পক্ষে বিবৃতি দেখে ঢাকার আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম নামে সংগঠনটি চটেছে। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন একজন আলেম।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের সভাপতি মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বিবৃতিতে বলেছেন, ‘একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কোন ব্যক্তির মুক্তির দাবী তোলা মানে মানবতাবিরোধী অপরাধের সমর্থন দেয়া, যা একটি গুরুতর অপরাধ।’



প্রতিনিধি/এস/


গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সংশ্লিষ্ট খবর