শীতে সহায়তা ও তাঁবু সংকটে গাজায় মানবিক বিপর্যয়

Loading...

শীতে সহায়তা ও তাঁবু সংকটে গাজায় মানবিক বিপর্যয়

গাজা উপত্যকায় লাখো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের জন্য নতুন সরবরাহ করা তাঁবু শীতকালীন বৃষ্টি ও ঝড় ঠেকাতে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তার ওপর চলমান বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে আশ্রয় সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত প্যালেস্টাইন শেল্টার ক্লাস্টারের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন, মিসর ও সৌদি আরব থেকে সরবরাহ করা অনেক তাঁবু বৃষ্টি ও বাতাস প্রতিরোধে ব্যর্থ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক ঝড়ে হাজার হাজার তাঁবু ভেঙে গেছে বা উড়ে গেছে, যার ফলে অন্তত ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ মূল্যায়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক জরিপ, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিসর থেকে আসা তাঁবুগুলোর কাপড় সহজেই ছিঁড়ে যায়, সেলাইয়ের মান খারাপ এবং সেগুলো মোটেও পানিরোধী নয়।

Loading...

এসব তাঁবুতে মেঝে নেই, জানালা ছোট, কাঠামো দুর্বল এবং নকশাগত সমস্যার কারণে ছাদে পানি জমে থাকে। সৌদি আরবের তাঁবুগুলোও হালকা ও পানিরোধী নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চীন থেকে আসা তাঁবুগুলোকে অত্যন্ত পাতলা ও শীতকালীন আবহাওয়ার জন্য অনুপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জাতিসংঘের সরবরাহ করা তাঁবুগুলো আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মানবিক সহায়তা কর্মীরা বলছেন, এ তথ্যগুলো গাজায় পর্যাপ্ত আশ্রয় সরবরাহের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজায় প্রবেশ করা প্রায় ৯০ হাজার তাঁবুর মধ্যে মাত্র ২০ হাজার সরবরাহ করেছে জাতিসংঘ ও বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। বাকি তাঁবুগুলো বিভিন্ন দেশের সরাসরি সহায়তা হিসেবে এসেছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান সহায়তা-সংশ্লিষ্টরা।

Loading...

গাজার বহু বাস্তুচ্যুত পরিবার এখনো অস্থায়ী তাঁবু বা ধ্বংসস্তূপের ভেতর বসবাস করছে। তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। অনেক তাঁবু দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে, ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষা দেয় না এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টির কারণে দুর্বল ভবন ধসে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শীতে পর্যাপ্ত আশ্রয় না থাকায় শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত কারণে (হাইপোথার্মিয়া) মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের প্রতি গাজায় মানবিক সহায়তার ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কাতার, মিসর, জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু, চিকিৎসাসামগ্রী, পরিষ্কার পানি, জ্বালানি ও স্যানিটেশন সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেয়ার দাবি জানান।

Loading...

প্রায় ১৯ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শীত, অপুষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা।

একই সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজা ও পশ্চিম তীরে কাজ করা ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ নিষেধাজ্ঞা জীবন রক্ষাকারী মানবিক কার্যক্রমকে বিপর্যস্ত করতে পারে এবং সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে।’

Loading...

যুদ্ধবিরতির পর গোলাবর্ষণ কমলেও গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমেনি। শীতকালীন ঝড় চলতে থাকায় সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, দ্রুত মানসম্মত আশ্রয় ও অবাধ ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করা না হলে গাজার মানবিক সংকট আরো গভীর হবে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

Loading...

Loading