মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩২০ ফ্লাইট বাতিল, জনশক্তি রপ্তানিতে ধস

Loading...

মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩২০ ফ্লাইট বাতিল, জনশক্তি রপ্তানিতে ধস

চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশের আকাশসীমা বন্ধ। ফলে বাতিল হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইট। সেখান থেকে যারা নিজের দেশে এসেছিলেন, তারা ফেরত যেতে বিপাকে পড়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগ্রাসন চালায় ইরানে। এরপর থেকে তারা হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানও প্রতিরোধ হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত তাদের ৩২০টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী এসব ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রায় ৩৫ হাজার যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী গন্তব্যের দেশে যেতে পারেননি।

যদিও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলেছে, আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে তারা। যুদ্ধপরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী সমস্যার সম্মুখীন হলে, তা জানানোর জন্য চার সদস্যের কমিটি করেছে।

Loading...

ভোগান্তি চরমে, ভয় চাকরি হারানোর

মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। ছুটিতে দেশে এসে এখন অনেকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবৈধ হয়ে পড়বেন। চাকরি পর্যন্ত চলে যেতে পারে। আবার নতুন ভিসায় যারা কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তারাও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন।

ছুটিতে জানুয়ারিতে দেশে আসেন ইমরান হোসেন। রোববার আবার সংযুক্ত আরব-আমিরাতের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের কথা জানতে পারেন তিনি। ইমরান বলেন, ‘আজকের নির্ধারিত ফ্লাইট করা হয়েছে। কবে যেতে পারব, জানি না। ছুটি শেষ, কর্মস্থলে না ফিরলে চাকরি থাকে কিনা বুঝতে পারছি না।’

Loading...

আরেক প্রবাসী রাশেদ নিজাম বলেন, ‘যুদ্ধ চলছে ইরান-ইসরায়েল, বিপদে পড়েছি আমরা। প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। দুদিন ধরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় থাকছি। এভাবে কতদিন থাকা যায়! সরকার একটা ব্যবস্থা করবে আশা করছি।’

ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত

একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে মধ্যপ্রাচ্যের জনশক্তি বাজারে ধস নামছে বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, আমাদের প্রবাসী জনশক্তির মূল গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ। সেখানে তো কেউ যেতে পারছেন না। বিশেষ করে অনেকের ওমরার টিকিট-ভিসা করা ছিল। সৌদি আরবে হোটেল বুকিং দেওয়া হয়েছিল। কেউই যেতে পারেননি। বড় ক্ষতি হচ্ছে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

আব্দুস সালাম আরও বলেন, যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে কাজ করা অনেক কর্মী ভিসার মেয়াদ থাকলেও যেতে চাচ্ছেন না। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসার চেষ্টা করেও পারছেন না। খুবই বাজে অবস্থা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জনশক্তি রপ্তানি খাত একেবারে ধসে যাবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘ক্ষতি প্রতিদিন বাড়ছে। প্রবাসে যারা আছেন, তারা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। আবার যুদ্ধপরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে, তারা চাকরিচ্যুত হতে পারেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে। এই খাত ভীষণ ক্ষতির দিকে যাচ্ছে।’

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

Loading...

Loading