মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ আনন্দ ছাপিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা

Loading...

মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ আনন্দ ছাপিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আনন্দের ঈদে এবার আতঙ্কই বেশি মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের মনে।

প্রতি বছর উৎসবের আমেজে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাথার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের ওড়াউড়ি দেখতে হচ্ছে তাদের; কখন কোথায় আঘাত হানে, সেই ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে প্রতিক্ষণ।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উৎসবের আনন্দ রূপ নিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায়। বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক ঈদ উদযাপনের পরিবর্তে এখন তাদের প্রধান ভাবনায় পরিণত হয়েছে কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এক দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার কারণে সেই স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ঈদের আমেজ ছাপিয়ে এখন শহরের আকাশে নিয়মিত উড়ে বেড়াচ্ছে ফাইটার জেট, মাঝেমধ্যেই ছুটে যাচ্ছে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন।

দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সতর্কতামূলক সাইরেন সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এমন এক প্রতিকূল ও থমথমে পরিবেশের মধ্যেই গতকাল আমিরাতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবার খোলা মাঠ বা বড় ঈদগাহের পরিবর্তে কেবল মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

কাতার থেকে প্রবাসী রুমা আক্তার বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, ‘ঈদের কোনো আনন্দ নেই। প্রতি বছর প্রবাসে আমরা যেভাবে আনন্দ করি, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। ভয় আর আতঙ্কেই আমাদের সময় কাটছে। এখন নিরাপদে টিকে থাকাটাই আমাদের প্রথম চেষ্টা।’

একই ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও। সেখানে কর্মরত রুম্মান হোসেন গত রাতের এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘গতকাল (১৯ মার্চ) আমাদের বাসার কাছেই পরপর রকেট হামলা হয়েছে রিয়াদে। আমরা সবাই দৌড়ে ছাদে চলে যাই। ডরমিটরিতে সবাই ছোটাছুটি করছিল। আজ সকালে সবাই মিলে নামাজ পড়লাম। ঈদের দিনটা ভালো কাটছে। কিছুটা ভয় ছিল, তবে এখানকার হামলাগুলো বেশির ভাগই সরকার প্রতিহত করে দিচ্ছে। তাই বেশি দুশ্চিন্তা করছি না। কাজ নিয়মিত চলছে। সামনে কী হবে, সেটাই দেখার বিষয়।’

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আরেক সৌদি প্রবাসী সামির আহমেদ বলেন, ‘আমি যেখানে কাজ করি, সেখান থেকে মাত্র ১০-১৫ কিলোমিটার দূরেই বোমা হামলা হয়েছে। এমন সময়ও হয়েছে যখন দিনে দুই থেকে তিনবার হামলা হয়েছে।’ ঈদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ঈদের দিনে আমরা এক শহর থেকে অন্য শহরে বন্ধুদের কাছে বেড়াতে যেতাম। কিন্তু এবার বোমা হামলার আশঙ্কায় বেশির ভাগ শহরে অবাধ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা যেখানে আছি, সেখানেই থাকতে হচ্ছে।’

গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আজমানসহ আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশী মুসল্লি প্রধান মসজিদগুলোতে সমবেত হয়ে নামাজ আদায় করেন। তবে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান থমথমে পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীদের চলাফেরা ও জমায়েতে সতর্কতা দেখা গেছে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

নামাজ শেষে কয়েকজন কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের এক ধরনের ছায়া বা থমথমে পরিস্থিতি সত্যিই বিরাজ করছে, কিন্তু তার পরও আমরা যারা এখানে আছি, তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কখনো কার্পণ্য করি না। আমরা নামাজ আদায় করেছি, সবার সঙ্গে আনন্দ বিনিময় করেছি। তবে দেশের প্রিয়জনদের জন্য মনটা সবসময় পড়ে থাকে।’

প্রবাসীরা আশা প্রকাশ করেন, চলমান সামরিক সংকট দ্রুত নিরসন হবে এবং তারা পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে আতঙ্কে থাকলেও দেশে থাকা স্বজনরা যেন নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ কাটাতে পারেন, সেই কামনাই ছিল সবার কণ্ঠে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

Loading...

Loading