সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২০ |

বাণিজ্যযুদ্ধের লাভ-ক্ষতি

 বৃহঃস্পতিবার ২৮শে মে ২০২০ রাত ১১:৩৫:৪৪
বাণিজ্যযুদ্ধের

২য় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন ও সোভিয়েতের মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। স্নায়ুযুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল প্রায় ৫০ বছর। একুশ শতকে এসে আবার বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী দুই পরাশক্তি চীন-যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়েছে বাণিজ্যযুদ্ধে। এই যুদ্ধে কারা লাভবান হবে আর কারা-ই নিজেদের জড়াবে? সেই প্রশ্ন থেকে যায়।

চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়ানো ও টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুদ্ধটা শুরুটা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে চীনও পাল্টা শুল্ক আরোপ করলো মার্কিন পণ্যে। আর এর মধ্যে দিয়েই বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হলো পুরোদমে। কিন্তু, এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে? যুক্তরাষ্ট্র ৩,৪০০ কোটি ডলারের শুল্ক আরোপ করেছে চীনা পণ্যে। অন্যদিকে চীন ৫৪৫টি মার্কিন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। চীনের দাবি, সারা দুনিয়ার নানা দেশের ওপরই এই যুদ্ধের প্রভাব পড়বে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য, চীনা পণ্য মার্কিন বাজারে বিস্তৃতির পরিণতিতে তাদের শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে এটাও বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধ ভালো এবং আমেরিকার তাতে কোনো ক্ষতি নেই, বরঞ্চ লাভ। বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তির বাণিজ্যযুদ্ধের পরিণতি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

 

 

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কার্যকলাপের প্রায় ১৯% চীনের দখলে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তাদের শিল্প কারখানা। চীনের অর্থনীতি এখন এতটাই বৃহৎ যে, তাদের উৎপাদিত বেশিরভাগ পণ্যই বিশ্ববাজারের মূল্য নির্ধারণ করে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইছেন, আমেরিকার শিল্প এবং কর্মংসংস্থানকে চাঙ্গা করতে, চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে। চীনাদের আমদানি থেকে রপ্তানির পরিমাণটাই বেশি। কাজেই যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে কর বসালে এর উৎপাদনের সাথে জড়িত সব দেশের কর্মসংস্থানের ওপরই প্রভাব পড়বে। তার পর আছে ওভারহেড খরচ। কারণ, সব দেশই আমদানি-রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভরশীল।

 

 

অধিকাংশ বিশ্লেষকের ধারণা, বাণিজ্যের লড়াই এমন এক লড়াই যেখানে জয় আসাটা কঠিন। এই বিষয়ে বিবিসির বাণিজ্য বিষয়ক সংবাদদাতা কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন।

 

শুল্ক বসালেই আমেরিকায় স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে চাকরির সুযোগ বাড়ার নিশ্চয়তা নেই।
বাড়তি শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্রগুলো। শুধু তা-ই নয় জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থাও নিতে পারে।
গাড়ী, কৃষি-শিল্পের মতো যেসব আমেরিকান শিল্প চীনে বাজার পাচ্ছে, যা হতে পারে চীনের পাল্টা অস্ত্র।
ট্রাম্প চাইছেন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে। যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন শঙ্কায় এশিয়ার রপ্তানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এ রকম এক টালমাটাল অবস্থায় বড়দের বাণিজ্যযুদ্ধে সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশগুলো। অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কারণে দুই দেশের রপ্তানি মূল্য বেড়েছে। এ সুযোগে তৃতীয় আরেকটি দেশ সেসব পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পাচ্ছে। মার্কিন ক্রেতারাও চীনের পরিবর্তে অন্য দেশে যাচ্ছেন। মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে ভিয়েতনাম। এছাড়া তাইওয়ান থেকে ২৩ শতাংশ, বাংলাদেশ থেকে ১৪ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১২ শতাংশ আমদানি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চীন থেকে আমদানি হ্রাসের কারণে চাহিদা মেটানোর জন্য এশিয়ার অন্যান্য দেশের ওপরই বেশি নির্ভরশীল হচ্ছে মার্কিন বাজার। এর সুবিধা নিয়েই লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্য কয়েকটি দেশ।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাণিজ্যযুদ্ধে যেহেতু পণ্যের দাম বেড়ে যায় – তাই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, যারা পণ্য কেনে।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

ফিচার ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর