শনিবার ২৮শে নভেম্বর ২০২০ |

সবাইকে পেছনে ফেলে কাতার এয়ারওয়েজের সাফল্য

 শনিবার ২৯শে আগস্ট ২০২০ সকাল ১১:১৪:১৫
সবাইকে

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় তিন বিমান পরিচালনা প্রতিষ্ঠান- এমিরেটস  এয়ারলাইনস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজ। অঞ্চলটির ‘বিগ থ্রি’ নামে পরিচিত এই এয়ারলাইনগুলো বিশ্বখ্যাত। পরস্পরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীও  তারাই।


বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে বিমানযাত্রায় ধস  নেমেছে। তার প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসগুলোর ওপরেও। সবাই চেষ্টা  করছে মহামারির আগের অবস্থায় ফিরে যেতে। স্বাভাবিক যাত্রা শুরু করতে। কিন্ত  মহামারির মধ্যে তাদের ব্যবসার হাল কেমন ছিল? 

এ প্রশ্নের উত্তর ব্যাখ্যা  করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যারোটাইমডটঅ্যারো।

প্রতিবেদনটি অনুসারে, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনা বন্ধের ঘোষণা দেয় গত ২৫শে মার্চ।

এর একদিন পর একই পথ অনুসরণ করে এমিরেটসও। পরবর্তী দুই মাস ধরে উভয়  কোম্পানিই যাত্রী পরিবহণ বন্ধ রাখে। তার জায়গায় কার্গো উড়িয়ে বেড়ায় ও মাঝে  মাঝে নাগরিক ফিরিয়ে আনার কাজ করে।
তবে কিছুটা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল  কাতার এয়ারওয়েজ। তারা যাত্রী পরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ না রেখে, সীমিত করে  ফেলে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যাত্রী পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু পুরোপুরি বাদ  করে দেওয়া হয় না।

যাত্রীবাহী বিমানগুলো দিয়ে বিদেশে আটকে থাকা মানুষজনকে  দেশে ফিরিয়ে নেয়, মেডিক্যাল সাপ্লাই ও কার্গো পরিবহণ করে। ফলস্বরুপ,  সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশ এগিয়ে যায় কাতার  এয়ারওয়েজ। এপ্রিলে তারা ঘোষণা দেয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনে পরিণত  হয়েছে কোম্পানিটি। সেসময় বিশ্ববাজারের ১৭.৮ শতাংশই ছিল তাদের দখলে।

কাতার  এয়ারওয়েজ এপ্রিল ও মে মাসে কতগুলো যাত্রীবাহী ফ্লাইট ও কতগুলো কার্গো  পরিবহণ করেছিল তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। যদিও আইএটিএ নিশ্চিত করেছে, কাতার  এয়ারওয়েজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনে পরিণত হয়েছে ও তারা স্বল্প পরিমাণেই  যাত্রী পরিবহণ করেছে।

মধ্য-মে থেকে ফের ধীরে ধীরে যাত্রী পরিবহণের  ব্যবসায় ফিরতে শুরু করে এমিরেটস ও ইতিহাদও। কিন্তু ততদিনে বেশ এগিয়ে ছিল  কাতার। প্রতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ৩০টি বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করছিল তাদের  বিমান। তবে কাতার এয়ারওয়েজ লকডাউনের সময় ও এখনো এগিয়ে থাকলেও কমে এসেছে  ব্যবধান। মহামারির আগে এমিরেটস ও কাতার প্রায় সমান সংখ্যক স্থানে আসা-যাওয়া  করতো। এমিরেটস বিশ্বজুড়ে ১৫৯টি বিমানবন্দর ও কাতার ১৬০টি বিমানবন্দরে  যাত্রা করার রেকর্ড রয়েছে। করোনার সময় বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মাঝে  হিমশিম খাচ্ছে উভয় এয়ারলাইনসই।

এদিকে, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ধীরে ধীরে  ব্যবসার ফেরা শুরু করে। জুনে একগুচ্ছ ফ্লাইট চালু করেছে তারা। বাকি  ফ্লাইটগুলো আগামী মাসে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এয়ারলাইনটি বেশ আগ  থেকেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিল। করোনা মহামারির আগেই সংকটে ছিল তারা।  ইতিহাদের ভবিষ্যৎ বেশ অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

এমিরেটস ও ইতিহাদ- উভয়  এয়ারলাইনই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান। আইএটিএ অনুসারে,  চলতি বছর বিমান চলাচল কমে যাওয়ায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার হারাতে  যাচ্ছে দেশটি। অন্যদিকে, বিমান চলাচল কমায় কাতার হারাতে যাচ্ছে ৩০০ কোটি  ডলার।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

কাতার,কাতারের খবর,দোহা,দোহার খবর,প্রবাসী,কাতার প্রবাসী,প্রবাসীর খবর,Qatar,Doha,Qatar News,Doha News

মানবজমিন

সংশ্লিষ্ট খবর