নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ২৭ হাজার নতুন মুখ

Loading...

নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ২৭ হাজার নতুন মুখ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্রসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া ২৭ হাজার ৬৩৭ জনও রয়েছেন।

নতুন মুখ হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্বে দেখা যাবে তাদের। তবে শতভাগ পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে অতীতের মতোই আস্থাহীনতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং তাদের স্থাপনাগুলো সবচেয়ে বেশি জনরোষের শিকার হয়।

নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের হত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে কয়েকটি বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশকে কাজে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। বদলে দেয়া হয় তাদের লোগো ও পোশাক। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিসের লোকবল নেয়া হয়।

এরপর নিয়মিত প্রশিক্ষণের বাইরে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্যও তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব নতুন সদস্য এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

Loading...

ভোটের মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যরা শতভাগ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যারা বিভিন্ন বাহিনীতে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের কাছে সাধারণ জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করি। তাদের কাছ থেকে আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চাই। অতীতে নির্বাচনী দায়িত্বে সম্পৃক্ত পুলিশ-আনসারের কিছু সদস্যের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। অভিযোগ ছিল তারা কোনো একটি দলের হয়ে কাজ করেছেন। আমরা চাইব এবার যেন সেই অভিযোগ না আসে।

শতভাগ পেশাদারত্ব বজায় রেখে তাদের কাজ করতে হবে। কারণ পেশাদারত্ব বজায় রাখতে না পারলে তার প্রভাব সমাজের সব স্তরে পড়ে। নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। কে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীপ্রধানরা সদস্যদের নির্দেশনা দিয়ে থাকবেন। সে অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে মোট ২৭ হাজার ৬৩৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে পুলিশে। শৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করা এ বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয় ১৫ হাজার ৮৫১ জনকে।

পরে তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে মূল বাহিনীতে যুক্ত করা হয়। এরপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ দেয়া হয় ৪ হাজার ৪৬৯ জনকে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে গত মাসে তাদের মূল বাহিনীতে যুক্ত করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

Loading...

গত ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টারে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেডের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সে সময় তিনি বলেন, ‘নতুন সদস্যরা দ্রুত বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। বড় পরিসরে রিক্রুটমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।’

এর বাইরে আনসার বাহিনীতে ৫ হাজার ৫৫১, কারা অধিদপ্তরে ১ হাজার ৫৫৮ ও ফায়ার সার্ভিসে ২০৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে এক লাখ সেনাসদস্য, পাঁচ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৭ হাজার ৭০০ জন র‍্যাব সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শতভাগ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘পুলিশে নতুন যুক্ত হওয়া ১৫ হাজার ৮৫১ জনকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্যও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন সব পুলিশ সদস্য শতভাগ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।’

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

বণিক বার্তা

Loading...

Loading