ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় প্রবাসী কর্মীরা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী হবে?

Loading...

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় প্রবাসী কর্মীরা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী হবে?

সৌদি আরবে ২৩ বছর ধরে কাজ করছেন আব্দুল জলিল। ছুটিতে দেশে এসে এখন কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

কারণ শনিবার তার ফেরার ফ্লাইট ছিল, কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

সে দিন রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়া জলিল বলছিলেন, তার এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ আছে আর একদিন। অর্থাৎ রোববার তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে জলিলের মতো অনিশ্চয়তায় পড়া প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা।
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অর্থনীতির গতি কমে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানে টান পড়ে কিনা, সেই শঙ্কা থাকার কথা বলেছেন খাত সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। আবার কেউ বলছেন, রেমিটেন্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সরকার আটকে পড়া শ্রমিকদের ভোগান্তি কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে। আক্রান্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে নানা নির্দেশনা দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস।

শনিবার সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় ইরানে। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে, এমন দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

আমিরাত ও বাহরাইনে নিহত ২ বাংলাদেশি

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত ও দুইজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার।
এছাড়া কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় ছয়টি দেশে সৌদি আরবে, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ওমান ও আরব আমিরাতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ বাংলাদেশি থাকেন বলে খাত সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিচ্ছেন।

যুদ্ধ কবলিত হয়েছে লেবানন, জর্ডান ও ইরাকও, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আছেন।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

অনিশ্চয়তায় প্রবাসী কর্মীরা

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট-রামরুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ গেছেন সৌদি আরবে। এরপর কাতারে ১০ শতাংশ, ৬ শতাংশ সিঙ্গাপুরে, কুয়েতে ৪ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ৪ শতাংশ কর্মী গেছেন।

প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার কর্মী বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যান। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “এর মধ্যেই ৮/১০ হাজার ভিসা স্ট্যান্ডিং হয়ে গেছে। এভাবে দিন যেতে থাকলে সংকটতো বাড়বেই।”

এই পরিস্থিতিতে জনশক্তি ব্যবসায়ীরা কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। দীর্ঘায়িত হলে কী কী হতে পারে, তার হিসাব চলছে। এমনিতে এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারাও বলছে, পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অল্প সময়ের মধ্যে ফ্লাইট চলতে শুরু করলে, আশা করছি তেমন সমস্যা হবে না।

“এরমধ্যে কাতার যেমন ভিসা একমাস এক্সটেন্ড করছে। আর কয়েকটা দেশ এরকম কিছু উদ্যোগ নিলে, পরবর্তীতে সমাধান সহজতর হবে।”

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী হবে?

“প্রতি দিন গড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার কর্মী বিদেশে যান, যাদের ৯০ ভাগেরই গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। এই আটকে পড়া কর্মীর সংখ্যা যতো জমতে থাকবে শঙ্কা ততোই বাড়তে থাকবে। অনেকের ভিসার মেয়াদ চলে যাচ্ছে, আবার যারা নতুন যাচ্ছেন তারা তো টাকা-পয়সা খরচ করে বসে রয়েছেন। বেশিরভাগই ঋণ করেন, এসব আবার জমতে থাকবে।”
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ার শঙ্কার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, “যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আক্রান্ত দেশগুলোর অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে যাবে। ফলে বাংলাদেশিরা যেসব ক্ষেত্রে কাজ করেন-নির্মাণ বা সাধারণ সেবাখাতগুলোতে কাজ কমে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে।”
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগেও রেমিটেন্স বাড়ার ধারাবাহিকতা ছিল, অর্থাৎ তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসে। জানুয়ারিতে রেমিটেন্স এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন বা ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগে মাস ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৪২ ডলার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ডলার।

বলা যায়, যেসব খাতের ওপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতির চাকাটা ঘুরছে, প্রবাসী আয় সেগুলোর অন্যতম। এই প্রবাসী আয়ের বড় একটা অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

Loading...

Loading