যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বড় লোকসানের মুখে পড়বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

Loading...

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বড় লোকসানের মুখে পড়বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

জাতীয় পতাকাবাহী আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে ২২টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সংস্থাটির মোট আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের প্রায় অর্ধেকই পরিচালিত হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে।

কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে রয়েছে বিমানের ১০টি আন্তর্জাতিক রুট। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে ছয়টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রেখেছে সংস্থাটি।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

স্থগিত রুটগুলো হলো আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম। এসব রুটে সপ্তাহে ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। ফ্লাইটগুলো স্থগিত রাখায় বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ৭৭৭-৩০০ ও ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের একাধিক উড়োজাহাজ অলস বসে থাকছে বলে জানিয়েছেন বিমানের কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অনেক আকাশ পরিবহন সংস্থার মতো বিমানও ক্ষতির মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বছর শেষে বড় লোকসানে পড়তে পারে বিমান।

এমন প্রেক্ষাপটে বিমানকে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার খোঁজার পরামর্শ দিচ্ছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অলস বসে থাকা উড়োজাহাজগুলো দিয়ে বিকল্প রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরামর্শও তারা দিচ্ছেন।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও পাঁচটি ড্যাশ-৪০০ উড়োজাহাজ। অন্যদিকে ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে বর্তমানে ১৪টি সচল বলে জানিয়েছেন বিমানের কর্মকর্তারা।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সংঘাত শুরুর পর থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিমানের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আর ৩ মার্চ থেকে আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিমান।

এ ছয় রুটের মধ্যে ঢাকা-আবুধাবি ও ঢাকা-শারজাহ রুটে সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হয় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে।

Loading...

ঢাকা-দুবাই রুটে সপ্তাহে বিমানের ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি। এ রুটে বিমানের ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে। অন্যদিকে ঢাকা-দোহা রুটে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালনা করে বিমান।

ঢাকা-কুয়েত রুটে বিমান সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। এ ফ্লাইটগুলোয় ব্যবহৃত হয় বোয়িং ৭৭৭-৩০০ মডেলের উড়োজাহাজ। এর বাইরে ঢাকা-দাম্মাম রুটে সপ্তাহে বিমানের শিডিউলড ফ্লাইটের সংখ্যা ছয়টি। ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য রুটের (জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, মাস্কাট) ফ্লাইটগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার কথা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিমান। অন্যদিকে স্থগিত হওয়া রুটগুলোর যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকেট রিফান্ড অথবা বিনামূল্যে যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দেয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিমানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর অভিহিত করে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলেও গত ৫৪ বছরে রুটে বৈচিত্র্য আনতে পারেনি বিমান। সংস্থাটি এখনো নির্ভর করছে অভিবাসী শ্রমিককেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই বিমানের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি এ অতিনির্ভরতা।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিমানকে নতুন বাজার খোঁজার দিকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংস্থাটির সাবেক পর্ষদ সদস্য ও আকাশ পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট একটি বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকা ঠিক না। কেবল অভিবাসী শ্রমিককেন্দ্রিক থাকা কোনো এয়ারলাইনসের জন্যই ইতিবাচক নয়।

বিমান কখনোই ব্যালান্স প্যাসেঞ্জার সেগমেন্ট নিয়ে কাজ করেনি। তারা আসলে নতুন কিছু করার চেয়ে সহজ পথটাই বেছে নিয়েছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে লেবার মুভমেন্ট বা শ্রমিক পরিবহনই সবচেয়ে আরামদায়ক ব্যবসা, কারণ এখানে বাড়তি চেষ্টা ছাড়াই নিশ্চিত যাত্রী পাওয়া যায়। এ গ্যারান্টিড ব্যবসার লোভে পড়ে তারা সবসময় এদিকেই ঝুঁকেছে, কিন্তু অন্য মার্কেটগুলো এক্সপ্লোর করার বা নতুন সুযোগ খোঁজার প্রয়োজন বোধ করেনি।’

Loading...

আকাশ পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম আরো বলেন, ‘বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বেশকিছু ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমান চাইলেই এ অতিরিক্ত ফ্লাইটগুলোকে বসিয়ে না রেখে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো রুটগুলোয় ব্যবহার করতে পারত। এসব লাভজনক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ালে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হতো, অন্যদিকে বিমানও ব্যবসায়িকভাবে অনেক বেশি লাভবান হতে পারত।’

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

বিমান গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৪ লাখ যাত্রী পরিবহন করে। কার্গো পরিবহন করে ৪৩ হাজার ৯১৮ টন। ওই অর্থবছরে ৯৩৭ কোটি টাকা অনিরীক্ষিত মুনাফা করে সংস্থাটি। বিমানের মুনাফার বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক ও হজযাত্রী পরিবহন করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চলতি অর্থবছর তাই বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও রুটে বৈচিত্র্য আনতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে গতকাল একাধিকবার ফোন ও এসএমএস দিয়েও বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিমানের এমডি ও সিইও ড. হুমায়রা সুলতানাও সাড়া দেননি।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

Loading...

Loading