কেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত থামাতে মরিয়া পাকিস্তান?

Loading...

কেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত থামাতে মরিয়া পাকিস্তান?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের একটি ভৌগলিক ও কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। এর আগে মূলত ওমান বা কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আগে এ ধরনের মধ্যস্থতা করত। কিন্তু চলমান উত্তেজনার মুখে ওই দেশগুলো কিছুটা চাপে থাকায় পাকিস্তান এই সুযোগটি গ্রহণ করেছে।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ উত্তেজনার মধ্যে এক অপ্রত্যাশিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান।

দেশটি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিতে পাকিস্তানের এ ভূমিকা অনেকটা অপ্রত্যাশিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে তারা। খবর এপি।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

ইসলামাবাদে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন গোপন কূটনীতির পরই তারা এ শান্তি প্রচেষ্টার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। যদিও এ আলোচনার বিস্তারিত খুব একটা জানানো হয়নি, তবে পাকিস্তান বলেছে, তারা মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের একটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। এর আগে মূলত ওমান বা কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আগে এ ধরনের মধ্যস্থতা করত। কিন্তু চলমান উত্তেজনার মুখে ওই দেশগুলো কিছুটা চাপে থাকায় পাকিস্তান সুযোগটি গ্রহণ করেছে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পরোক্ষ আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে তেহরান স্বীকার করেছে, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজস্ব কিছু প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে।

এই বার আদান-প্রদান প্রমাণ করে যে অত্যন্ত বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি জানালা খোলা রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, তুরস্ক ও মিসরও এই পরিস্থিতি শান্ত করতে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ভৌগলিক নৈকট্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক পাকিস্তানকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। গত এক বছরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাকে তিনি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মুনিরের সঙ্গে ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সুসম্পর্ক এ মধ্যস্থতায় সহায়ক হচ্ছে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

এই মধ্যস্থতার পেছনে পাকিস্তানের নিজস্ব কিছু বড় স্বার্থও জড়িয়ে আছে। বর্তমান সংঘাত পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান জ্বালানি তেলের সিংহভাগ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রায় ৫০ লাখ পাকিস্তানি কাজ করেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে নিজের অর্থনীতিকে বাঁচাতেও এই অঞ্চলের শান্তি পাকিস্তানের জন্য জরুরি।

দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাও ইসলামাবাদের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয়। সম্প্রতি মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পাকিস্তানে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়। পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে খামেনির গুরুত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশটির অভ্যন্তরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পথ প্রশস্ত করেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। এর ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। এছাড়া ১৯৮৮ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দোহা আলোচনায় সহায়তা করে দেশটি নিজের কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। বর্তমান সংকটেও পাকিস্তান সেই অভিজ্ঞতাক কাজে লাগিয়ে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করছে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

Loading...

Loading